ভারতে আন্দোলন, কেন্দ্রের সঙ্গে আজ বৈঠকে সিজেপি
নিটসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে আলোচনার পথে হাঁটছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠককে ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারের আশা, আলোচনার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সরকারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী পক্ষের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন। বৈঠকে নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রাজপথের কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হতে পারে। শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারবার আন্দোলনকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যেখানে এবং যখন চাইবেন, সরকার সেখানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে তারা আন্তরিক এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়।
নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার বিষয়েও নমনীয় অবস্থানের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। বিষয়টি নিয়ে সংসদে কবে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে আলোচনার পাশাপাশি সংসদেও এ ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারের কাছে আর কিছু নেই। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তবে সরকারের এসব বার্তার পরও আন্দোলনকারী পক্ষের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্দোলনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও তরুণদের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর ফলে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও আন্দোলনটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের সমালোচনা করে বলছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের বৈঠক শুধু আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নয়, ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে উত্তেজনা কমতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এখন সবার নজর কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের দিকে।

























