পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে সশস্ত্র হামলা, ডিএসপিসহ ৭ পুলিশ নিহত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে সশস্ত্র হামলায় এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি)-সহ অন্তত সাত পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। খবর দিয়েছে জিও নিউজ।
বুধবার (২৯ জুলাই) হাঙ্গু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) তারিক হাবিব জানান, জেলার খাজিনা বান্দা পুলিশ চেকপোস্টে একদল সশস্ত্র হামলাকারী অতর্কিত হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে ডিএসপি মুজাহিদ হুসেইনও রয়েছেন।
তিনি জানান, হামলার পরপরই পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে অন্তত আট হামলাকারী নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় এখনো নিরাপত্তা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে আফগান তালেবান প্রশাসনের কাছে সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে কাবুল এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ পাকিস্তানের।
এই প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা হামলার জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ শুরু করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৩২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পাকিস্তানের সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান। ওই সময়ে দেশজুড়ে সহিংসতাজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৬ শতাংশই এই দুই প্রদেশে ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৪৭৫ জন এবং বেলুচিস্তানে ২৬৫ জন নিহত হন। একই সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৫১টি এবং বেলুচিস্তানে ৯৪টি সহিংস ঘটনার রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।




















