1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি: ২৪ লাখের স্বস্তি, বোঝা ১৮ কোটির কাঁধে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, বাড়তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচে চাপে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা যখন বাড়তি আয়ের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, তখন বেসরকারি চাকরিজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর আয় বাড়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বাড়াবে কে? ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে সরকারি সুবিধার আওতায় থাকা চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ২৪ লাখ। ফলে বড় একটি জনগোষ্ঠীর আয় অপরিবর্তিত থাকায় বাড়তি মূল্যস্ফীতির বোঝা তাদের ওপরই পড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব বাজারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি কর্মীদের আয় বাড়লে বাজারে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি পণ্যের সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে নিত্যপণ্যসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচও বাড়তে পারে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠী আরও চাপে পড়বে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। দেশের সাড়ে ১৪ লাখের বেশি বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

বাজারে বাড়ছে উত্তাপ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির খবরের মধ্যেই নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে বাড়তি চাপ। মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চাল কিনতে কেজিতে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ২০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল।

এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা। মাসের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। নতুন করে চিনির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ভোজ্যতেলের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা।

সবজির দামও ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ পড়ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে খাবার ও অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর বড় কোনো স্বস্তি ফেরেনি।

পাঁচ-ছয় বছরেও বাড়েনি অনেকের আয়

মালিবাগ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাসে ৩৬ হাজার টাকা বেতন দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহণ, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচও বেড়েছে। অথচ গত পাঁচ বছরে তার বেতন বাড়েনি।

কাওরান বাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. নোমান বলেন, মাসে ৪০ হাজার টাকা আয় করলেও গত ছয় বছরে তার আয় বাড়েনি। কিন্তু এই সময়ে পণ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলাতে গিয়ে খাবারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

সরকারের নীতিতে সবার জন্য স্বস্তি চায় বিশ্লেষকরা

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীদের প্রণোদনা ও বেতন বৃদ্ধিতে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কিন্তু দেশের বাকি মানুষের জন্যও মূল্যস্ফীতি কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা উচিত।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা না থাকায় কিছু অসাধু বিক্রেতা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজার তদারকিতে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ায় প্রায় ১৪ লাখ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা পাবেন এবং তারা বাড়তি বাজারদর কিছুটা সামাল দিতে পারবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাদের স্বস্তি দিতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে মূল বেতন

সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা রয়েছে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত, সিন্ডিকেট ও কারসাজি বন্ধ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও অন্যদিকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্র হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫১ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি: ২৪ লাখের স্বস্তি, বোঝা ১৮ কোটির কাঁধে

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫১ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, বাড়তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচে চাপে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা যখন বাড়তি আয়ের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, তখন বেসরকারি চাকরিজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর আয় বাড়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বাড়াবে কে? ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে সরকারি সুবিধার আওতায় থাকা চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ২৪ লাখ। ফলে বড় একটি জনগোষ্ঠীর আয় অপরিবর্তিত থাকায় বাড়তি মূল্যস্ফীতির বোঝা তাদের ওপরই পড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব বাজারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি কর্মীদের আয় বাড়লে বাজারে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি পণ্যের সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে নিত্যপণ্যসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচও বাড়তে পারে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠী আরও চাপে পড়বে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। দেশের সাড়ে ১৪ লাখের বেশি বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

বাজারে বাড়ছে উত্তাপ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির খবরের মধ্যেই নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে বাড়তি চাপ। মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চাল কিনতে কেজিতে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ২০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল।

এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা। মাসের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। নতুন করে চিনির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ভোজ্যতেলের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা।

সবজির দামও ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ পড়ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে খাবার ও অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর বড় কোনো স্বস্তি ফেরেনি।

পাঁচ-ছয় বছরেও বাড়েনি অনেকের আয়

মালিবাগ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাসে ৩৬ হাজার টাকা বেতন দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহণ, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচও বেড়েছে। অথচ গত পাঁচ বছরে তার বেতন বাড়েনি।

কাওরান বাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. নোমান বলেন, মাসে ৪০ হাজার টাকা আয় করলেও গত ছয় বছরে তার আয় বাড়েনি। কিন্তু এই সময়ে পণ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলাতে গিয়ে খাবারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

সরকারের নীতিতে সবার জন্য স্বস্তি চায় বিশ্লেষকরা

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীদের প্রণোদনা ও বেতন বৃদ্ধিতে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কিন্তু দেশের বাকি মানুষের জন্যও মূল্যস্ফীতি কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা উচিত।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা না থাকায় কিছু অসাধু বিক্রেতা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজার তদারকিতে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ায় প্রায় ১৪ লাখ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা পাবেন এবং তারা বাড়তি বাজারদর কিছুটা সামাল দিতে পারবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাদের স্বস্তি দিতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে মূল বেতন

সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা রয়েছে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত, সিন্ডিকেট ও কারসাজি বন্ধ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও অন্যদিকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্র হতে পারে।