ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরের ২০ দিনে ৮৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯৩
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে ডেঙ্গুতে ৮৭ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬১ হাজার ৯৭২। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৩ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১, চট্টগ্রামে ১৬৫, বরিশালে ১৫৯, রাজশাহীতে ১৩৭ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগী বাড়লে প্রস্তুত মোবাইল হাসপাতাল
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোববার সচিবালয়ে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চার মাস আগে থেকেই জেলা সদর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। মশা নিয়ন্ত্রণে স্প্রে ও ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়েই ডেঙ্গু রোগীদের স্যালাইন ও জ্বরের ওষুধ দেওয়া এবং শরীরে প্লাজমা লিকেজ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু অনেক রোগী সরাসরি উচ্চতর বা তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে চলে আসছেন। এতে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
রোগীর সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্যালাইন ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
৪৮ ঘণ্টায় তৈরি হতে পারে মশার লার্ভা
মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মশার লার্ভা তৈরি হতে পারে।
এ জন্য ডাবের খোসা, খানাখন্দ, ফুলের টবসহ যেসব স্থানে পানি জমে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সংসদ ভবন থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার সারা দেশে এ অভিযান চলছে, যা আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
























