জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলন-শফিকুর রহমান
জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারকে এক দফার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আট দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা মানা না হলে এক দফার ডাক দিতে আমরা বাধ্য হব। লড়াই করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছে। সরকার ও তারাও এই ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।
জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। তার লম্বা হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়—এমন বক্তব্য অবাস্তব ও লজ্জাজনক। নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার চেয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর দ্বিগুণ করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে। বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।
লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের লংমার্চ ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে হয়েছে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। তিনি বলেন, কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ঢাকা থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা লংমার্চের গাড়িবহর বগুড়ায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভা ঘিরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা লংমার্চে যুক্ত হন। পরে মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভা শেষে গাড়িবহরটি রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।


























