নওগাঁয় চৌকিদারি প্যারেডে গুরুত্ব পাচ্ছে গ্রাম পুলিশের তথ্য সংগ্রহ ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা
নওগাঁ জেলায় গ্রামীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারকিতে চৌকিদারি প্যারেডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ধামইরহাট থানায় চৌকিদারি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদারি আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বাংলায় গ্রাম পুলিশ ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (PRB), ১৯৪৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের মাধ্যমে চৌকিদারদের থানায় নিয়মিত হাজিরা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
চৌকিদারদের অন্যতম দায়িত্ব হলো নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে থানার পুলিশকে তথ্য দেওয়া। হত্যা, ডাকাতি, চুরি, দাঙ্গা, অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে তারা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে অবহিত করেন।
জেলা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের মধ্যে মূলত তথ্যের আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। গ্রাম পুলিশ সরাসরি জেলা পুলিশের অংশ না হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
নওগাঁয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতি মাসের ক্রাইম কনফারেন্সে ভালো কাজের জন্য একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করার প্রথা চালু করা হয়েছে।
চৌকিদারি প্যারেডের কার্যকারিতা শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠপর্যায়ের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তদারকি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর এর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
নওগাঁ জেলার সকল থানায় যথাযথভাবে চৌকিদারি প্যারেড আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে চৌকিদারদের আরও নিবিড়ভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছবিতে: ধামইরহাট থানায় অনুষ্ঠিত চৌকিদারি প্যারেডের দৃশ্য।


























