ধামইরহাটের ঐতিহাসিক ঠাকুর কাছারিবাড়িতে ৬০০ বৃক্ষরোপণ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর ঠাকুর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ই-এসডিও (E-SDO)-এর সহযোগিতায় এবং ধামইরহাট উপজেলা ভূমি অফিসের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ঐতিহাসিক ঠাকুর কাছারিবাড়ি চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।
ধামইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেনের সার্বিক নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলোও পরিষ্কার করা হয়।
ইতিহাসের সাক্ষী ঠাকুর কাছারিবাড়ি
ধামইরহাট উপজেলার পলাশবাড়ীতে অবস্থিত মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর ঠাকুর কাছারিবাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি এলাকার জমিদারি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর সঙ্গে পলাশবাড়ীসহ ধামইরহাটের বিভিন্ন এলাকার জমিদারি কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল।
একসময় এই কাছারিবাড়ি ছিল জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে ভূমি-রাজস্ব আদায়সহ জমিদারি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কাছারিবাড়িকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্মৃতি ও জনশ্রুতি।
ধামইরহাটের শালবন ও আলতাদিঘি এলাকার সঙ্গেও মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর নাম জড়িয়ে আছে। স্থানীয় ইতিহাসে তাঁর সময়কালে শালবনের গাছের নিলামসহ বিভিন্ন জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। ফলে ধামইরহাটের ইতিহাস, জমিদারি ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে এই মহারানীর নাম বিশেষভাবে সম্পৃক্ত।
কালের বিবর্তনে ঐতিহাসিক কাছারিবাড়ির অনেক স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়লেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখনো বিদ্যমান। সেই ঐতিহ্যবাহী স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির পরিবেশকে আরও সবুজ ও নান্দনিক করে তুলবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ধামইরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মোঃ মোসেকুল ইসলাম
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

























