হরমুজ সংকটে বিশ্বজুড়ে খাদ্যঝুঁকিতে দুই কোটির বেশি নারী-কন্যাশিশু
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের নারী ও কন্যাশিশুবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের এক প্রতিবেদনে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ বা প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখই নারী ও কন্যাশিশু।
ইউএন উইমেন বলছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায়। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সংকটে থাকা দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
দক্ষিণ সুদানে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজন নারীর একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকা নারীর হার প্রায় ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে যাওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীদের অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০ শতাংশ, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি এবং সুদানে ৫৬ শতাংশ হতে পারে বলে ইউএন উইমেনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি শুধু খাদ্যের দামই বাড়ায় না, কৃষি উৎপাদনের খরচও বাড়িয়ে দেয়। ফলে দরিদ্র ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোর মানুষের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে।
























