1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ শর্ত, ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩

ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রস্তাবের জবাবে রোববার (৪ অক্টোবর) ইরান এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য এসব শর্ত নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে উদ্ধৃত করে ইরানি সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ভিন্ন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। তেহরান আর আলোচনা দীর্ঘায়িত করা কিংবা একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার সম্ভাবনা

একই দিনে পৃথক বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবিত পথনকশা ও শর্ত মেনে নিলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা সম্ভব।

তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, হরমুজ খোলার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের নীতিগত প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে।

তার ভাষায়, চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান করা সম্ভব।

ওয়াশিংটনকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনীতির পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি আবার সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত। আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তেহরান পিছপা হবে না।

‘খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নেব’: ট্রাম্প

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, বিষয়টি সহজ উপায়ে সমাধান হবে, নাকি কঠিন উপায়ে? আমি খুব শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আগের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। এতে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অনুমতি নিয়ে হরমুজ পার হলো ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল তেল

এর মধ্যেই ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ইরাকের রাষ্ট্রীয় কোম্পানির একটি বড় ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, এই চালান বিশ্ববাজারে ইরাকি তেল সরবরাহে বাড়তি নমনীয়তা তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সুবিধা নিতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত করলেও ইরাককে বিশেষ ছাড় দিয়ে এই তেলবাহী জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থার প্রভাব বৈশ্বিক তেলের বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ শর্ত, ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৩

ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রস্তাবের জবাবে রোববার (৪ অক্টোবর) ইরান এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য এসব শর্ত নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে উদ্ধৃত করে ইরানি সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ভিন্ন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। তেহরান আর আলোচনা দীর্ঘায়িত করা কিংবা একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার সম্ভাবনা

একই দিনে পৃথক বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবিত পথনকশা ও শর্ত মেনে নিলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা সম্ভব।

তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, হরমুজ খোলার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের নীতিগত প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে।

তার ভাষায়, চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান করা সম্ভব।

ওয়াশিংটনকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনীতির পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি আবার সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত। আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তেহরান পিছপা হবে না।

‘খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নেব’: ট্রাম্প

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, বিষয়টি সহজ উপায়ে সমাধান হবে, নাকি কঠিন উপায়ে? আমি খুব শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আগের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। এতে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অনুমতি নিয়ে হরমুজ পার হলো ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল তেল

এর মধ্যেই ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ইরাকের রাষ্ট্রীয় কোম্পানির একটি বড় ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, এই চালান বিশ্ববাজারে ইরাকি তেল সরবরাহে বাড়তি নমনীয়তা তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সুবিধা নিতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত করলেও ইরাককে বিশেষ ছাড় দিয়ে এই তেলবাহী জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থার প্রভাব বৈশ্বিক তেলের বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।