পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হেলজেন
চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হেলজেন। দক্ষিণ মেরুর বরফে স্থাপিত ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’র মাধ্যমে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
হেলজেনের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফস্তর ব্যবহার করে নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করা। ১৯৮৮ সালে তিনি এ ধরনের একটি পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণের ধারণা দেন। তার ধারণার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ গড়ে ওঠে।
প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বরফের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক আলোকসংবেদী সেন্সর। নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হয়। বরফের মধ্যে থাকা সেন্সরগুলো সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করে নিউট্রিনোর গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে তথ্য দেয়।
নিউট্রিনোকে প্রায় ‘অদৃশ্য’ কণা বলা হয়। এসব কণা সাধারণত পদার্থের সঙ্গে খুব সামান্যই взаимодействিয়া করে এবং বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো প্রতিনিয়ত পৃথিবী ও মানবদেহ ভেদ করে চলে যায়, অথচ তা অনুভব করা যায় না।
উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। ফলে এসব কণা শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও রহস্যময় বিভিন্ন জ্যোতির্পদার্থগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান।
দক্ষিণ মেরুর বরফ এ গবেষণার জন্য উপযোগী হওয়ায় সেখানে বিশাল পরিসরে পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়। আইসকিউবের নির্মাণকাজ ২০১১ সালে শেষ হয়। এরপর বিজ্ঞানীরা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সৌরজগতের বাইরের দূরবর্তী মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনোরও সন্ধান পান।
এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রিনো কীভাবে তৈরি হয় এবং সেগুলোর উৎস কোথায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার নতুন পথ উন্মোচিত হয়েছে।
গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট ও জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক বর্তনীতে স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং ও শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২৫ বছর বয়সে লরেন্স ব্র্যাগ এ পুরস্কারের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হন। আর সবচেয়ে বেশি বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান আর্থার আশকিন; ৯৬ বছর বয়সে ২০১৮ সালে তিনি এ পুরস্কার অর্জন করেন।


























