1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিচার চেয়ে ১২ দপ্তরে চিঠি স্থানীয়দের

মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ ১২ টি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মাদ্রাসার মাঠে থাকা একটি বড় আকারের কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলেন। পরে স্থানীয় এক কাঠ বিক্রেতা রিপন মিয়া (৪৫)-এর নিকট ১৩ হাজার টাকায় গাছ বিক্রির আলাপআলোচনা করেন। এর মধ্যে স্থানীয়দের মাঝে গাছ কেটে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে গাছ বিক্রি করতে ব্যর্থ হন মাদ্রাসার সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারি ছুটির দিন মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন মাদ্রাসা সুপার। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর থেকে গাছটি মাদ্রাসার মাঠে পড়ে রয়েছে।

অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা যায়, এর আগে মাদ্রাসার ওই সুপারিনটেনডেন্ট আরও চারটি (৪) ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। তিনি ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করে তা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া, মোখলেছ বসুনিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকী মাদ্রাসা বন্ধের দিন একটি বড় কাঁঠাল গাছ কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতে চাইলে, আমরা স্থানীয়রা মাদ্রাসার মাঠে গাছটি আটকে দেই। বর্তমান গাছটি স্থানীয়দের হেফাজতে মাদ্রাসার মাঠে আছে। তারা আরও বলেন, এর আগেও তিনি চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেন। তিনি আরও একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আমরা স্থানীয়রা এর সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে বিধিমালা অনুয়ায়ী অপরাধের সঠিক বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের ৫০ জনের গনস্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এবং সুস্থ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন।

গাছ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (৪৫) জানান, আমার কাছে ১৩ হাজার টাকায় কাঁঠাল গাছটি বিক্রির বন্দোবস্ত করেছিলেন মাদরাসা সুপার। তিনি এই গাছটি বিক্রি করে উক্ত দামে আমার কাছে ইউক্যালিপটাস কাঠ নেবেন বলে আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার মাদ্রাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতিক্রমে আমি গাছটি কেটেছি। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যাম মাহাবুর রহমান জানান, স্কুলের ফার্নিচার তৈরীর জন্য গাছটি স্থানীয়দের পরামর্শে কাটা হয়েছে। তাছাড়া স্কুলে নতুন ভবন হবে। গাছটি থাকলে আমাদের ভবন নির্মাণে অসুবিধা হবে এ কারণেও গাছটি কাটা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে মাদ্রাসা সুপারকে গাছ কাটার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। ব্যাখ্যা দিলে বিষয়টি বুঝে তারপরে ব্যবস্থা নিবো।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে তো সব তথ্য থাকেনা এডিসি শিক্ষার সাথে কথা বলেন।

পরে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সরকারি ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিচার চেয়ে ১২ দপ্তরে চিঠি স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
১০

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ ১২ টি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মাদ্রাসার মাঠে থাকা একটি বড় আকারের কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলেন। পরে স্থানীয় এক কাঠ বিক্রেতা রিপন মিয়া (৪৫)-এর নিকট ১৩ হাজার টাকায় গাছ বিক্রির আলাপআলোচনা করেন। এর মধ্যে স্থানীয়দের মাঝে গাছ কেটে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে গাছ বিক্রি করতে ব্যর্থ হন মাদ্রাসার সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারি ছুটির দিন মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন মাদ্রাসা সুপার। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর থেকে গাছটি মাদ্রাসার মাঠে পড়ে রয়েছে।

অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা যায়, এর আগে মাদ্রাসার ওই সুপারিনটেনডেন্ট আরও চারটি (৪) ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। তিনি ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করে তা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া, মোখলেছ বসুনিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকী মাদ্রাসা বন্ধের দিন একটি বড় কাঁঠাল গাছ কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতে চাইলে, আমরা স্থানীয়রা মাদ্রাসার মাঠে গাছটি আটকে দেই। বর্তমান গাছটি স্থানীয়দের হেফাজতে মাদ্রাসার মাঠে আছে। তারা আরও বলেন, এর আগেও তিনি চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেন। তিনি আরও একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আমরা স্থানীয়রা এর সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে বিধিমালা অনুয়ায়ী অপরাধের সঠিক বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের ৫০ জনের গনস্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এবং সুস্থ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন।

গাছ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (৪৫) জানান, আমার কাছে ১৩ হাজার টাকায় কাঁঠাল গাছটি বিক্রির বন্দোবস্ত করেছিলেন মাদরাসা সুপার। তিনি এই গাছটি বিক্রি করে উক্ত দামে আমার কাছে ইউক্যালিপটাস কাঠ নেবেন বলে আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা সুপার শাহ মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার মাদ্রাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতিক্রমে আমি গাছটি কেটেছি। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যাম মাহাবুর রহমান জানান, স্কুলের ফার্নিচার তৈরীর জন্য গাছটি স্থানীয়দের পরামর্শে কাটা হয়েছে। তাছাড়া স্কুলে নতুন ভবন হবে। গাছটি থাকলে আমাদের ভবন নির্মাণে অসুবিধা হবে এ কারণেও গাছটি কাটা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে মাদ্রাসা সুপারকে গাছ কাটার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। ব্যাখ্যা দিলে বিষয়টি বুঝে তারপরে ব্যবস্থা নিবো।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে তো সব তথ্য থাকেনা এডিসি শিক্ষার সাথে কথা বলেন।

পরে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সরকারি ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।