1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩

শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটকাদেশ ও তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এসব পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

দুই মাস ধরে আটক, বহিষ্কারাদেশ স্থগিত

আদালতে ওই ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সন্দেহের কারণে গত ৮ আগস্ট থেকে তাঁর মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তির স্ত্রী ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) জারি করা বহিষ্কারাদেশ এবং স্বামীর আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ওই ব্যক্তির বহিষ্কারাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই ব্যক্তিকে দুই মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

‘শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ নয়’

আটক ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতকে বলেন, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট সন্দেহই তাঁর মক্কেলকে আটকের কারণ। এ অবস্থায় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেবল এ ধরনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কীভাবে কারও নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটক রাখা যায় না।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, সত্তরের দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন এবং তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?

পরে মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠান তিনি।

বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করার অভিযোগ

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় তাঁদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘আটক, নাম বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আওতায় সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের আটকশিবিরে রেখে দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।

এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রায় এক বছর থাকার পর আদালতের নির্দেশে গত জুলাইয়ে মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে চারজন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা সরকারের দায়িত্ব। কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার ইঙ্গিত দেন, আটক ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করে থাকতে পারেন।

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরেও বিতর্ক

নাগরিকত্ব ও পরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ভারতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণ সামনে এল। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে এবং এর ফলে অনেক মানুষ সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের সরকারি যুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই মামলায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেও কাউকে আটক বা বহিষ্কারের আগে আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
৩

শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটকাদেশ ও তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এসব পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

দুই মাস ধরে আটক, বহিষ্কারাদেশ স্থগিত

আদালতে ওই ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সন্দেহের কারণে গত ৮ আগস্ট থেকে তাঁর মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তির স্ত্রী ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) জারি করা বহিষ্কারাদেশ এবং স্বামীর আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ওই ব্যক্তির বহিষ্কারাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই ব্যক্তিকে দুই মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

‘শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ নয়’

আটক ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতকে বলেন, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট সন্দেহই তাঁর মক্কেলকে আটকের কারণ। এ অবস্থায় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেবল এ ধরনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কীভাবে কারও নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটক রাখা যায় না।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, সত্তরের দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন এবং তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?

পরে মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠান তিনি।

বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করার অভিযোগ

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় তাঁদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘আটক, নাম বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আওতায় সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের আটকশিবিরে রেখে দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।

এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রায় এক বছর থাকার পর আদালতের নির্দেশে গত জুলাইয়ে মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে চারজন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা সরকারের দায়িত্ব। কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার ইঙ্গিত দেন, আটক ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করে থাকতে পারেন।

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরেও বিতর্ক

নাগরিকত্ব ও পরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ভারতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণ সামনে এল। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে এবং এর ফলে অনেক মানুষ সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের সরকারি যুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই মামলায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেও কাউকে আটক বা বহিষ্কারের আগে আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।