কাশিয়ানীতে ফ্যামিলি কার্ড: ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৮৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা
স্বাবলম্বী পরিবার গঠন, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরতে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম, উপজেলা সমাজসেবার ফিল্ড সুপার ভাইজার এস এম শফি কামাল। এ ছাড়া স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য পরিবারপ্রধানদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাব বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে পরিবারভিত্তিক নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অপরিহার্য। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তাই তথ্য সংগ্রহকারীদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং এ কাজে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম বলেন, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকৃত যোগ্য পরিবারগুলো যাতে এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে, সে জন্য তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৮৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি চারজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ, স্বচ্ছ উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


























