জলঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনী কক্ষের টেবিলে ঘুমাচ্ছেন শিক্ষিকা
নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনী কক্ষের টেবিলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন শিক্ষিকা।
ঘটনাটি জলঢাকা গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।সেই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা শ্রেণি কক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, মঙ্গলবার উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ সময় শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ সময় শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের এক পর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
সাংবাদিকরা ওই বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আনেন এলাকাবাসী। এসময় তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণি কক্ষের সামনে অবস্থান করেন।
এ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে একজন শিক্ষকের
ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিগ্ন ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতেন, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানান।বারবার সর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না।তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও সর্তক করেছিলেন, কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন,রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন,স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান,এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

























