1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাঃ ৬ লেনের দাবি

মাসুম বিল্লাহ, ফকিরহাটঃ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১

খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে টাউন নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা এলাকায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই প্রকট আকার ধারন করেছে। উক্ত মহাসড়কে দূরপাল্লার পরিবহনে দ্রুত গতি, অদক্ষ চালক, যত্রতত্র ওভারটেকিং এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্গনের ফলে এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসাবে চিহৃত করা হয়েছে। অত্র সড়ক এর দু’পার্শ্বে অবৈধভাবে ট্রাকে কাঠ বোঝাই দেওয়া, মাছ লোড-আনলোড, ইট-বালু লোড-আনলোড করা এবং বিদুৎ এর খুটি রেখে অবৈধ্য বানিজ্য করার ফলে গাড়ি ওভারটেকিং সময় প্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা প্রসাশন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা বা মাইকিং এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করলেও কোন এক অশুভ শক্তির ফলে এসব অবৈধ বানিজ্য থেমে থাকছে না। ফলে সড়কে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন সংখ্যা। এতে অনেক পরিবাবের স্বপ্ন নিমিষেই ধংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫-৭ জন ব্যক্তি উক্ত এলাকায় শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করছে। এসব অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে উপজেলা প্রসাশন, বাগেরহাট জেলা সড়ক বিভাগ এবং আইনশৃংঙ্খলায় নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরও এমন সড়ক দুর্ঘটনা কারো কাম্য নয়।
ঢাকা থেকে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়ে খুলনায় পৌঁছানো এই মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের জীবনরেখা। খুলনা বিভাগ, মোংলা বন্দর ও আশপাশের জেলার পণ্য আর যাত্রী চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। অথচ সেই সড়কেই এখন প্রায় প্রতিদিন ঝরছে তাজা প্রাণ। বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে চাপা দেওয়া কিংবা সড়ক পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থী সহপথচারীর প্রাণ হারানোর খবর এ অঞ্চলের মানুষের কাছে আর নতুন কিছু নয়।
এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট। তাঁরা চান মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা হোক, জনবহুল মোড় ও হাটবাজারে নির্মিত হোক আন্ডারপাস ও ওভারপাস, আর চালকদের জন্য নিশ্চিত করা হোক নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কঠোর নজরদারি। তাঁদের মতে, শুধু লেন বাড়ালেই হবে না, ধীর ও দ্রুতগতির যান আলাদা করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষিপণ্যের সরবরাহ ও বন্দরের কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করছে এই সড়কের ওপর। যানবাহনের চাপ যে হারে বাড়ছে, তাতে বর্তমান কাঠামো দিয়ে আর চলা সম্ভব নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি পরিবারের হাহাকার, একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প। তাই ৬ লেনের দাবি এখন আর শুধু উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরার দাবিতে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা
মো. মোফাজ্জেল হোসেন মনা বলেন, “আমরা শুনেছি সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

এব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ জামান বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে কাঠ ব্যবসায়ী, ইট-বালু ব্যবসায়ী, মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী এবং বিদুৎ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উক্ত দখলদার মুক্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে সড়কে গাড়ির চাপ মোকাবেলায় ৬ লেন উন্নিত করা হলে, দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস, ভারী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার সহ অসংখ্য ভারী যানবাহন ছুটছে প্রবল গতিতে। বাজার বা মোড়ে এলেও গতি কমানোর লক্ষণ নেই। সড়কের পাশে নেই পর্যাপ্ত সার্ভিস লেন কিংবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা। উক্ত সড়কে ৬ লেনে উন্নিত করে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে সড়ক বিভাগ কাজের অগ্রগতি দ্রুত বৃদ্ধি করবেন বলে আশাবাদী সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাঃ ৬ লেনের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২১

খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে টাউন নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা এলাকায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই প্রকট আকার ধারন করেছে। উক্ত মহাসড়কে দূরপাল্লার পরিবহনে দ্রুত গতি, অদক্ষ চালক, যত্রতত্র ওভারটেকিং এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্গনের ফলে এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসাবে চিহৃত করা হয়েছে। অত্র সড়ক এর দু’পার্শ্বে অবৈধভাবে ট্রাকে কাঠ বোঝাই দেওয়া, মাছ লোড-আনলোড, ইট-বালু লোড-আনলোড করা এবং বিদুৎ এর খুটি রেখে অবৈধ্য বানিজ্য করার ফলে গাড়ি ওভারটেকিং সময় প্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা প্রসাশন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা বা মাইকিং এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করলেও কোন এক অশুভ শক্তির ফলে এসব অবৈধ বানিজ্য থেমে থাকছে না। ফলে সড়কে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন সংখ্যা। এতে অনেক পরিবাবের স্বপ্ন নিমিষেই ধংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫-৭ জন ব্যক্তি উক্ত এলাকায় শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করছে। এসব অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে উপজেলা প্রসাশন, বাগেরহাট জেলা সড়ক বিভাগ এবং আইনশৃংঙ্খলায় নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরও এমন সড়ক দুর্ঘটনা কারো কাম্য নয়।
ঢাকা থেকে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়ে খুলনায় পৌঁছানো এই মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের জীবনরেখা। খুলনা বিভাগ, মোংলা বন্দর ও আশপাশের জেলার পণ্য আর যাত্রী চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। অথচ সেই সড়কেই এখন প্রায় প্রতিদিন ঝরছে তাজা প্রাণ। বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে চাপা দেওয়া কিংবা সড়ক পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থী সহপথচারীর প্রাণ হারানোর খবর এ অঞ্চলের মানুষের কাছে আর নতুন কিছু নয়।
এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট। তাঁরা চান মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা হোক, জনবহুল মোড় ও হাটবাজারে নির্মিত হোক আন্ডারপাস ও ওভারপাস, আর চালকদের জন্য নিশ্চিত করা হোক নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কঠোর নজরদারি। তাঁদের মতে, শুধু লেন বাড়ালেই হবে না, ধীর ও দ্রুতগতির যান আলাদা করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষিপণ্যের সরবরাহ ও বন্দরের কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করছে এই সড়কের ওপর। যানবাহনের চাপ যে হারে বাড়ছে, তাতে বর্তমান কাঠামো দিয়ে আর চলা সম্ভব নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি পরিবারের হাহাকার, একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প। তাই ৬ লেনের দাবি এখন আর শুধু উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরার দাবিতে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা
মো. মোফাজ্জেল হোসেন মনা বলেন, “আমরা শুনেছি সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

এব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ জামান বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে কাঠ ব্যবসায়ী, ইট-বালু ব্যবসায়ী, মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী এবং বিদুৎ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উক্ত দখলদার মুক্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে সড়কে গাড়ির চাপ মোকাবেলায় ৬ লেন উন্নিত করা হলে, দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস, ভারী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার সহ অসংখ্য ভারী যানবাহন ছুটছে প্রবল গতিতে। বাজার বা মোড়ে এলেও গতি কমানোর লক্ষণ নেই। সড়কের পাশে নেই পর্যাপ্ত সার্ভিস লেন কিংবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা। উক্ত সড়কে ৬ লেনে উন্নিত করে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে সড়ক বিভাগ কাজের অগ্রগতি দ্রুত বৃদ্ধি করবেন বলে আশাবাদী সচেতন মহল।