এইচএসসি ২০২৬-এর ফলাফলে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে বিপর্যয়
নড়াইল জেলার নারী শিক্ষার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি ২০২৬ সালের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, কলেজটির মোট ৪১২ জন পরীক্ষার্থী, উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৫৯ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ৭৬ জনের মধ্যে ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩২৫ জনের মধ্যে ২০৪ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের ফলাফল অনেকটাই নিম্নমুখী।
জেলার একটি সরকারি কলেজের এমন ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদের প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, কলেজে বিশৃঙ্খলা এবং কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার পরিবেশে।
অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারীর পরামর্শে কলেজ পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এ ছাড়া কলেজের প্রধান সহকারী শেখ আব্দুল আলিম অবসরে যাওয়ার পরও তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখা এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সাবেক সম্পাদক পিযুষ কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষক সবুজ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্য ও উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং শিক্ষক মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্য, নারী ঘটিত বিষয়ে অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
অভিভাবকদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও সিদ্ধান্ত যাচাই করা জরুরি।
সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ অধ্যক্ষ পদে পদায়ন পেতে চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ছায়েম আলী খান কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা অভিভাবক ও সচেতন মহলের।























