জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি, আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়বো না : ডা. শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এ আন্দোলন করছি।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চ চলাকালে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া গোল চত্ত্বরে এবং কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। বৃহত্তর ত্যাগের জন্য যুব সমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাগেরহাটের বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত ও বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল আলীম এবং ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করা না হলে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা হলে জনগণই সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১-দলীয় ঐক্য উক্ত লংমার্চের আয়োজন করেন। উল্লেখ্য, লংমার্চটি সকাল ৭ টায় ঢাকার বাইতুল মোকারম মসজিদের দক্ষিন গেটে আয়োজিত সমাবেশ থেকে শুরু হয়ে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জনসভার মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।



























