1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি পরিমাপে বাধা, ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ বিবাদীর বিরুদ্ধে

মো: ইনতাজ হোসেন (বান্দরবান) সংবাদদাতা
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানের লামায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে বিরোধীয় জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদী পক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা সম্পন্ন করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হেডম্যান ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও বিবাদী জমি পরিমাপে রাজি না হওয়ায় পরিমাপ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূখ্য অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে-
হেডম্যান-সার্ভেয়ার উপস্থিত থাকলেও সহযোগিতা না করার অভিযোগ, বাদীর সাথে অভদ্র বাসায় কথা বলার অভিযোগ, জায়গা পরিমাপ করে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত ৩০৫ নম্বর গজালিয়া মৌজার একটি বিরোধীয় জায়গা নিয়ে। এ বিষয়ে চানমে মার্মানী, স্বামী হাওয়াইং অং মার্মা, পিতা-মৃত মাহচ্যাং মার্মা, চম্পাতলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ মে ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিরোধীয় জায়গা উভয় পক্ষের একজন করে সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে পরিমাপ ও সীমানা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার হেডম্যান রূপহুমং মার্মা এবং ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রোর উপস্থিতিতে বিরোধীয় জায়গা পরিমাপ ও পরিচিহ্নিত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জায়গা পরিমাপের জন্য ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রোকেও অনুরোধ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী হেডম্যান ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নিলেও বিবাদী ক্যচিংমং মারমা, পিতা-হলাচিংথোয়াই মারমা, এতে সহযোগিতা করেননি। হেডম্যানের পক্ষ থেকে চার থেকে পাঁচবার অনুরোধ করা হলেও তিনি জায়গা পরিমাপে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জায়গা পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন হেডম্যান ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদীপক্ষ জায়গা পরিমাপ করে বিরোধীয় জমি বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেন। বাদী চানমে মার্মানী বিবাদীকে উদ্দেশ করে বলেন, জায়গা পরিমাপ করে তার প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু বিবাদী এতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকরা বিবাদী ক্যচিংমং মারমার কাছে জানতে চান, তিনি কেন জায়গা পরিমাপের কাজে সহযোগিতা করছেন না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র ভাষায় কথা বলেন। একই সময়ে বাদীর সঙ্গেও তিনি অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রো বলেন, দুই পক্ষকে জায়গা পরিমাপের জন্য বলা হয়েছিল। বাদীপক্ষ রাজি থাকলেও বিবাদীপক্ষ রাজি হয়নি। এ কারণে যথাযথভাবে জায়গা পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধীয় জায়গা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসনের শুনানির পর পরিমাপের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিবাদী প্রভাব খাটিয়ে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন।
বাদীর আরও অভিযোগ, জায়গা পরিমাপের বিষয়ে কথা বললে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, কোনো জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। প্রশাসনের নির্দেশনার পরও যদি কোনো পক্ষ জমি পরিমাপে সহযোগিতা না করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, ক্যচিংমং মারমা প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখিয়ে এর আগেও একাধিক ব্যক্তির জায়গা দখলের চেষ্টা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম্যান ও অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বাদীপক্ষের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বিরোধীয় জায়গা পুনরায় পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার অনুযায়ী জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা পালনে অসহযোগিতার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৩৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জমি পরিমাপে বাধা, ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ বিবাদীর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০২:২৫:৩৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বান্দরবানের লামায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে বিরোধীয় জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদী পক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা সম্পন্ন করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হেডম্যান ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও বিবাদী জমি পরিমাপে রাজি না হওয়ায় পরিমাপ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূখ্য অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে-
হেডম্যান-সার্ভেয়ার উপস্থিত থাকলেও সহযোগিতা না করার অভিযোগ, বাদীর সাথে অভদ্র বাসায় কথা বলার অভিযোগ, জায়গা পরিমাপ করে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত ৩০৫ নম্বর গজালিয়া মৌজার একটি বিরোধীয় জায়গা নিয়ে। এ বিষয়ে চানমে মার্মানী, স্বামী হাওয়াইং অং মার্মা, পিতা-মৃত মাহচ্যাং মার্মা, চম্পাতলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ মে ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিরোধীয় জায়গা উভয় পক্ষের একজন করে সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে পরিমাপ ও সীমানা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার হেডম্যান রূপহুমং মার্মা এবং ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রোর উপস্থিতিতে বিরোধীয় জায়গা পরিমাপ ও পরিচিহ্নিত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জায়গা পরিমাপের জন্য ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রোকেও অনুরোধ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী হেডম্যান ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নিলেও বিবাদী ক্যচিংমং মারমা, পিতা-হলাচিংথোয়াই মারমা, এতে সহযোগিতা করেননি। হেডম্যানের পক্ষ থেকে চার থেকে পাঁচবার অনুরোধ করা হলেও তিনি জায়গা পরিমাপে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জায়গা পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন হেডম্যান ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদীপক্ষ জায়গা পরিমাপ করে বিরোধীয় জমি বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেন। বাদী চানমে মার্মানী বিবাদীকে উদ্দেশ করে বলেন, জায়গা পরিমাপ করে তার প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু বিবাদী এতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকরা বিবাদী ক্যচিংমং মারমার কাছে জানতে চান, তিনি কেন জায়গা পরিমাপের কাজে সহযোগিতা করছেন না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র ভাষায় কথা বলেন। একই সময়ে বাদীর সঙ্গেও তিনি অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৩০২ নম্বর লুলাই মৌজার হেডম্যান সিংপাশ ম্রো বলেন, দুই পক্ষকে জায়গা পরিমাপের জন্য বলা হয়েছিল। বাদীপক্ষ রাজি থাকলেও বিবাদীপক্ষ রাজি হয়নি। এ কারণে যথাযথভাবে জায়গা পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধীয় জায়গা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসনের শুনানির পর পরিমাপের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিবাদী প্রভাব খাটিয়ে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন।
বাদীর আরও অভিযোগ, জায়গা পরিমাপের বিষয়ে কথা বললে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, কোনো জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। প্রশাসনের নির্দেশনার পরও যদি কোনো পক্ষ জমি পরিমাপে সহযোগিতা না করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, ক্যচিংমং মারমা প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখিয়ে এর আগেও একাধিক ব্যক্তির জায়গা দখলের চেষ্টা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম্যান ও অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বাদীপক্ষের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বিরোধীয় জায়গা পুনরায় পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার অনুযায়ী জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা পালনে অসহযোগিতার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।