সন্ধ্যা হলেই জমে ওঠে বনগাঁও বাজারের আড্ডা
চায়ের দোকান, ক্যারাম ও মোবাইলকেন্দ্রিক সময় কাটানো—উঠতি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও নতুন বাজার। গারো পাহাড়ের পাদদেশের এই জনপদে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মচাঞ্চল্য। বনগাঁও গ্রামেই ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বনগাঁও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়—যে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে।
কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই বাজারের চিত্র যেন কিছুটা বদলে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চায়ের দোকানগুলোতে শুরু হয় দীর্ঘ আড্ডা। কোথাও চলে ক্যারাম খেলা, কোথাও মোবাইল ফোন ঘিরে কয়েকজনের জটলা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব আড্ডাও দীর্ঘ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের একটি অংশ পড়াশোনা ও অন্যান্য গঠনমূলক কাজে সময় না দিয়ে দীর্ঘ সময় বাজারে কাটাচ্ছে—এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। চায়ের সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস এবং মোবাইল ফোনে অনুপযুক্ত ভিডিও দেখার প্রবণতা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে শুরু হয়ে কোনো কোনো আড্ডা রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত গড়ায়। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনার সময় নষ্ট হচ্ছে। রাত জেগে আড্ডা দেওয়ার কারণে পরদিন স্কুলে মনোযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়—এমন মতও রয়েছে সচেতন মহলের। তাদের মতে, সমস্যাটিকে সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।
বনগাঁওয়ের মতো গ্রামীণ বাজারে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো গেলে অবসর সময়টি আরও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা এবং তারা অবসর সময় কোথায় ও কীভাবে কাটাচ্ছে সে বিষয়ে খোঁজ রাখা জরুরি।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। রাত গভীর পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় আড্ডা যেন শিক্ষার্থী ও কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা না সৃষ্টি করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বনগাঁও নতুন বাজার ঝিনাইগাতীর উল্লেখযোগ্য বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তাই বাজারটির পরিবেশ শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয় নয়; স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের সামাজিক পরিবেশের সঙ্গেও এটি জড়িত।
সচেতন অভিভাবক, দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে বনগাঁও বাজারকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশে পরিণত করতে।
প্রশ্ন একটাই—চায়ের আড্ডায় হারিয়ে যাবে কি উঠতি প্রজন্মের মূল্যবান সময়, নাকি সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠবে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ?


























