পাঁচ সন্তান থাকতেও ভিক্ষায় জীবন চলে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ফাতেমার
পাঁচ সন্তান থাকতেও ভিক্ষায় জীবন চলে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ফাতেমার, ৮০ বছর বয়সে জোটেনি নিরাপদ আশ্রয়, ভাতার টাকায় মেটে না চিকিৎসার খরচ।
যে বয়সে সন্তানদের স্নেহ-যত্নে নিশ্চিন্তে দিন কাটানোর কথা, সেই বয়সেই মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইতে হচ্ছে ফাতেমা বেগমকে। বয়স ৮০ বছর। স্বামী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। অথচ তাঁর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে ভাতা পেলেও অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মেলেনি ফাতেমার। পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভিক্ষা করে দিন কাটছে তাঁর। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা কঠিন, আর থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের সডিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম। তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হক। বর্তমানে অন্যের দেওয়া কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি দুই চালার একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঘরটির অবস্থা নাজুক। ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই ঘরে থাকা তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। জীবনের শেষ বয়সে এসেও নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা পাননি তিনি।
ভাতার টাকায় চলে না চিকিৎসা
ফাতেমা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী নুরুল হক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পূর্বনাম ছিল নন্দলাল বর্মন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফাতেমা বেগমকে বিয়ে করার সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন মো. নুরুল হক। তাঁর তিন স্ত্রী ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি হালুয়াঘাট এলাকার একটি মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে ভাতা পেলেও সেই অর্থ দিয়ে ফাতেমা বেগমের সব প্রয়োজন মেটে না। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধার জন্য চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হচ্ছে তাঁকে।
পাঁচ সন্তান, তবু কাটছে না অসহায়ত্ব
ফাতেমা বেগমের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। এতগুলো সন্তান থাকার পরও কেন তাঁকে ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর সন্তানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর এমন জীবনযাপন প্রবীণ মানুষের প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। বার্ধক্যে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, চিকিৎসা, যত্ন ও আপনজনের সঙ্গ। অথচ ফাতেমা বেগমকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য।
ফাতেমার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
ফাতেমা বেগমের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, বসবাসের উপযোগী ঘরের ব্যবস্থা করা এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণের সঙ্গে জড়িত কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এই বৃদ্ধার শেষ দিনগুলো যেন অভাব আর অনিশ্চয়তায় না কাটে। তিনি যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, নিরাপদে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান এবং মানুষের কাছে হাত না পেতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন—এটাই এখন প্রত্যাশা।
আল আমিন, শেরপুর

























