1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলমের বদলে বুলেট! সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় মানববন্ধন

পলাশ পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৩

​‘কলমের বদলে বুলেট নয়, সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই’—এমন স্লোগান ও দাবিতে নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।
আজ ​শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘নেত্রকোনা সাংবাদিক সমাজ’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
​সাংবাদিক সঞ্জয় সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
​নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক লুৎফুর জামান আলিফ শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রান্তিক জনপদের মানুষের কথা তুলে ধরা একজন সাহসী গণমাধ্যমকর্মী। জনগুরুত্বপূর্ণ এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
​জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, জনবহুল এলাকায় সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রযুক্তিগত তদন্ত ও সিসিটিভিসহ অন্যান্য আলামত কাজে লাগিয়ে দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ কাটবে না।
​দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্য স্থানে হত্যা করে অপরাধীরা যদি দ্রুত পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
​বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর জেলা প্রতিনিধি তানভীর হায়াত খান এবং প্রবীণ লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, আলিফ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, চোরাচালান ও মাদক কারবার নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এসব কারণে তিনি হুমকির মুখে ছিলেন কি না, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
​নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকেও হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোরও দাবি জানান তারা।
​এদিকে আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
​পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
​ময়নাতদন্তে আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি শরীরের ভেতরে আটকে ছিল বলে ময়নাতদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হত্যাকাণ্ডের আগে আলিফের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করেছিল। ওই ঘটনায় তিনি মামলা করেছিলেন এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়।
​এ ছাড়া হত্যার কয়েক মাস আগে জেলা পুলিশের এক মতবিনিময় সভায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন আলিফ। তিনি সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে হুমকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
​মানববন্ধনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক প্রীতম মিয়া সোহাগ বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে মফস্বলের সাংবাদিকরা নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক নিশ্চয়তা সীমিত। সাংবাদিক হত্যার মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
​বক্তারা বলেন, আলিফ হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারের প্রশ্ন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
​মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত; হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার; সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানানো হয়।
​বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৩ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

কলমের বদলে বুলেট! সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৩ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২৩

​‘কলমের বদলে বুলেট নয়, সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই’—এমন স্লোগান ও দাবিতে নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।
আজ ​শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘নেত্রকোনা সাংবাদিক সমাজ’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
​সাংবাদিক সঞ্জয় সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
​নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক লুৎফুর জামান আলিফ শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রান্তিক জনপদের মানুষের কথা তুলে ধরা একজন সাহসী গণমাধ্যমকর্মী। জনগুরুত্বপূর্ণ এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
​জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, জনবহুল এলাকায় সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রযুক্তিগত তদন্ত ও সিসিটিভিসহ অন্যান্য আলামত কাজে লাগিয়ে দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ কাটবে না।
​দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্য স্থানে হত্যা করে অপরাধীরা যদি দ্রুত পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
​বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর জেলা প্রতিনিধি তানভীর হায়াত খান এবং প্রবীণ লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, আলিফ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, চোরাচালান ও মাদক কারবার নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এসব কারণে তিনি হুমকির মুখে ছিলেন কি না, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
​নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকেও হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোরও দাবি জানান তারা।
​এদিকে আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
​পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
​ময়নাতদন্তে আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি শরীরের ভেতরে আটকে ছিল বলে ময়নাতদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হত্যাকাণ্ডের আগে আলিফের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করেছিল। ওই ঘটনায় তিনি মামলা করেছিলেন এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়।
​এ ছাড়া হত্যার কয়েক মাস আগে জেলা পুলিশের এক মতবিনিময় সভায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন আলিফ। তিনি সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে হুমকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
​মানববন্ধনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক প্রীতম মিয়া সোহাগ বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে মফস্বলের সাংবাদিকরা নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক নিশ্চয়তা সীমিত। সাংবাদিক হত্যার মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
​বক্তারা বলেন, আলিফ হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারের প্রশ্ন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
​মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত; হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার; সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানানো হয়।
​বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।