1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় সরকারি বাহিনী বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪

ইয়েমেনের রাজধানী সানার দুপুরের আকাশে মিসাইলের ধোঁয়ার দীর্ঘ রেখা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ইরানসমর্থিত হুতিদের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য কখনও সৌদি আরব, আবার কখনও দক্ষিণে সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। সম্প্রতি পরিস্থিতি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

আলজাজিরার একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজকে হুতিদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ব্যাপক চাপে পড়েছে সরকারি বাহিনী। হুতিদের অগ্রযাত্রায় তাদের সামরিক রসদ সরবরাহের প্রধান রুটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি বাহিনীর খাদ্য, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সৈন্য পৌঁছানোর সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দর তীব্র হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।
এই সংকট সরকারি বাহিনীর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানকে থমকে দিচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতিদের দখল করা রাজধানী সানাসহ পুরো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য ছিল তাদের। তবে সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকারি কর্তারা অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

তাইজ শহর অবরুদ্ধ
দ্রুতগতির এক অভিযানে গত মাসে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। পরবর্তী সময় পাল্টা হামলায় কিছু ভূখণ্ড উদ্ধার হলেও সরবরাহব্যবস্থায় জটিলতা রয়ে গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে। এডেন থেকে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় পাহাড়ি বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং পেট্রোলের দাম তিন গুণ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র আল-দুবাইশ দাবি করেন, যুদ্ধে সাময়িক পিছু হটা মানেই মূল লড়াইয়ে হেরে যাওয়া নয়।

দীর্ঘ সময় ধরে তাইজ ছিল হুতিবিরোধী আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটি। শহরটির পতন হলে এডেনের নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইতোমধ্যে এক লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শহরটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট, ওষুধ ও খাদ্যাভাব।

সরকারি বাহিনী বর্তমানে লোহিত সাগর, তাইজ, মারিব ও আল-জওফের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। ইয়েমেনের উপবিচারমন্ত্রী ফয়সাল আল-মাজিদির মতে, তারা লজিস্টিক নমনীয়তা ও বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখছেন।

সৌদি আরবের বিমান হামলা
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব আবার ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে মিলে বিমান হামলা জোরদার করেছে। তারা চলতি মাসে হুতিদের শত শত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে।

কর্নেল আল-দুবাইশ বলেন, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনসজ্জিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদির সহায়তা অপরিহার্য। এটিকে তারা সরকারি বাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে দেখছেন।

আবার ইয়েমেনের সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি গঠিত হলেও একাধিক নেতৃত্বের কারণে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। লোহিত সাগর উপকূলে ভূখণ্ড হারানোর কারণও ছিল এই সামরিক কাঠামোর দুর্বলতা।

মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বাগদাদে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আরাঘচি উল্লেখ করেন, গত ১২ বছরের সংঘাত প্রমাণ করেছে, ইয়েমেন সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাত বন্ধে ইরান রাজনৈতিক সহায়তা ও মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়ার সময় নৌ মাইনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তেলবাহী দুটি সুপার ট্যাঙ্কারে আগুন লেগেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় সরকারি বাহিনী বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৪

ইয়েমেনের রাজধানী সানার দুপুরের আকাশে মিসাইলের ধোঁয়ার দীর্ঘ রেখা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ইরানসমর্থিত হুতিদের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য কখনও সৌদি আরব, আবার কখনও দক্ষিণে সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। সম্প্রতি পরিস্থিতি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

আলজাজিরার একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজকে হুতিদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ব্যাপক চাপে পড়েছে সরকারি বাহিনী। হুতিদের অগ্রযাত্রায় তাদের সামরিক রসদ সরবরাহের প্রধান রুটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি বাহিনীর খাদ্য, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সৈন্য পৌঁছানোর সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দর তীব্র হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।
এই সংকট সরকারি বাহিনীর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানকে থমকে দিচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতিদের দখল করা রাজধানী সানাসহ পুরো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য ছিল তাদের। তবে সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকারি কর্তারা অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

তাইজ শহর অবরুদ্ধ
দ্রুতগতির এক অভিযানে গত মাসে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। পরবর্তী সময় পাল্টা হামলায় কিছু ভূখণ্ড উদ্ধার হলেও সরবরাহব্যবস্থায় জটিলতা রয়ে গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে। এডেন থেকে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় পাহাড়ি বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং পেট্রোলের দাম তিন গুণ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র আল-দুবাইশ দাবি করেন, যুদ্ধে সাময়িক পিছু হটা মানেই মূল লড়াইয়ে হেরে যাওয়া নয়।

দীর্ঘ সময় ধরে তাইজ ছিল হুতিবিরোধী আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটি। শহরটির পতন হলে এডেনের নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইতোমধ্যে এক লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শহরটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট, ওষুধ ও খাদ্যাভাব।

সরকারি বাহিনী বর্তমানে লোহিত সাগর, তাইজ, মারিব ও আল-জওফের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। ইয়েমেনের উপবিচারমন্ত্রী ফয়সাল আল-মাজিদির মতে, তারা লজিস্টিক নমনীয়তা ও বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখছেন।

সৌদি আরবের বিমান হামলা
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব আবার ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে মিলে বিমান হামলা জোরদার করেছে। তারা চলতি মাসে হুতিদের শত শত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে।

কর্নেল আল-দুবাইশ বলেন, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনসজ্জিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদির সহায়তা অপরিহার্য। এটিকে তারা সরকারি বাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে দেখছেন।

আবার ইয়েমেনের সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি গঠিত হলেও একাধিক নেতৃত্বের কারণে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। লোহিত সাগর উপকূলে ভূখণ্ড হারানোর কারণও ছিল এই সামরিক কাঠামোর দুর্বলতা।

মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বাগদাদে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আরাঘচি উল্লেখ করেন, গত ১২ বছরের সংঘাত প্রমাণ করেছে, ইয়েমেন সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাত বন্ধে ইরান রাজনৈতিক সহায়তা ও মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়ার সময় নৌ মাইনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তেলবাহী দুটি সুপার ট্যাঙ্কারে আগুন লেগেছে।