1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের দুই আলোচিত আসন ফটিকছড়ি–২ ও সীতাকুণ্ড–৪: গেজেট জটিলতায় থমকে রাজনীতি, বাড়ছে তৃণমূলের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম।
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্বাচন শেষ, সংসদের প্রথম অধিবেশনও শেষ। কিন্তু এখনো আইনি জটিলতার কারণে অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত দুটি সংসদীয় আসন—চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড)। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরও সরকারি গেজেট প্রকাশ ও চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ।

চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দলীয় মনোনয়ন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে—দীর্ঘ রাজনৈতিক সময় ধরে তিনি নানা প্রতিকূলতা ও মামলার মুখোমুখি ছিলেন।

পরবর্তীতে তার মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং আগামী ৩০ তারিখ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এখন সবার নজর সেই রায়ের দিকে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসন নিয়ে শুরু থেকেই ছিল দলীয় অস্বস্তি ও মতপার্থক্য। বিএনপির পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সারোয়ার আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আজিম উল্লাহ বাহারের সমর্থিত নেতাকর্মীরা পার্টি পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি ছিল—ফটিকছড়ি আসনে দলের আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নেতা মনোনয়নের জন্য বিবেচনায় ছিলেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব ছালাহ উদ্দীন, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, এবং সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফায়েজী
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নেতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা ছিল বেশি ছিল বলে তারা মনে করেন। তবে এসব মূল্যায়ন রাজনৈতিক মতামত এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।

পরবর্তীতে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থীকে ঘিরে ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য গোপনের অভিযোগ ও বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন সামনে আসে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকেও আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে নির্বাচনের পরও আসনটির চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

এদিকে উচ্চ আদালত থেকে চট্টগ্রাম–২ আসনের বিষয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গেজেট ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ঐক্য, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণ হওয়া উচিত।

এখন দুই আসনের ভোটার, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসুক চট্টগ্রামের দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের দুই আলোচিত আসন ফটিকছড়ি–২ ও সীতাকুণ্ড–৪: গেজেট জটিলতায় থমকে রাজনীতি, বাড়ছে তৃণমূলের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নির্বাচন শেষ, সংসদের প্রথম অধিবেশনও শেষ। কিন্তু এখনো আইনি জটিলতার কারণে অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত দুটি সংসদীয় আসন—চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড)। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরও সরকারি গেজেট প্রকাশ ও চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ।

চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দলীয় মনোনয়ন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে—দীর্ঘ রাজনৈতিক সময় ধরে তিনি নানা প্রতিকূলতা ও মামলার মুখোমুখি ছিলেন।

পরবর্তীতে তার মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং আগামী ৩০ তারিখ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এখন সবার নজর সেই রায়ের দিকে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসন নিয়ে শুরু থেকেই ছিল দলীয় অস্বস্তি ও মতপার্থক্য। বিএনপির পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সারোয়ার আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আজিম উল্লাহ বাহারের সমর্থিত নেতাকর্মীরা পার্টি পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি ছিল—ফটিকছড়ি আসনে দলের আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নেতা মনোনয়নের জন্য বিবেচনায় ছিলেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব ছালাহ উদ্দীন, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, এবং সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফায়েজী
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নেতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা ছিল বেশি ছিল বলে তারা মনে করেন। তবে এসব মূল্যায়ন রাজনৈতিক মতামত এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।

পরবর্তীতে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থীকে ঘিরে ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য গোপনের অভিযোগ ও বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন সামনে আসে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকেও আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে নির্বাচনের পরও আসনটির চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

এদিকে উচ্চ আদালত থেকে চট্টগ্রাম–২ আসনের বিষয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গেজেট ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ঐক্য, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণ হওয়া উচিত।

এখন দুই আসনের ভোটার, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসুক চট্টগ্রামের দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন।