1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামায় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি :
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ড্রেজার মেশিনে অবৈধ বালি উত্তোলনে কৃষিজমি ধ্বংস, সর্বস্ব হারানোর আবদু শুক্কর
১৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি,

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ফকিরাখোলা এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় কৃষক আবদু শুক্কুরের মালিকানাধীন কৃষিজমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং পুরো এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আবদু শুক্কর সম্প্রতি ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় ছড়া ও কৃষিজমির পাশে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে তার প্রায় ২ দশমিক ৯০ একর ফসলি জমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— মো. আরমান, আসেক, মাহিন, আব্দুল্লাহ, শুক্কুর, আনোয়ার, রিদুয়ান, বাবু, আনছার, নূরু প্রকাশ বাড়না, মনজুর, সাইদুর রহমান, আমিন, নূরু, সাজ্জাদ ও আবদু রশিদ। এছাড়াও অভিযোগে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আবদু শুক্কর বলেন, “অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে আমার জমির স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি চলাচলের দিক পরিবর্তন হয়ে কৃষিজমি ভেঙে যাচ্ছে। আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই জমি। এভাবে চলতে থাকলে আমি সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে যাব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার প্রতিবাদ করা হলেও অভিযুক্তরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি বহু কৃষক জমি হারিয়ে চরম বিপদের মুখে পড়বেন।
ভুক্তভোগী আবদু শুক্করসহ স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

লামায় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ড্রেজার মেশিনে অবৈধ বালি উত্তোলনে কৃষিজমি ধ্বংস, সর্বস্ব হারানোর আবদু শুক্কর
১৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি,

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ফকিরাখোলা এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় কৃষক আবদু শুক্কুরের মালিকানাধীন কৃষিজমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং পুরো এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আবদু শুক্কর সম্প্রতি ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় ছড়া ও কৃষিজমির পাশে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে তার প্রায় ২ দশমিক ৯০ একর ফসলি জমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— মো. আরমান, আসেক, মাহিন, আব্দুল্লাহ, শুক্কুর, আনোয়ার, রিদুয়ান, বাবু, আনছার, নূরু প্রকাশ বাড়না, মনজুর, সাইদুর রহমান, আমিন, নূরু, সাজ্জাদ ও আবদু রশিদ। এছাড়াও অভিযোগে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আবদু শুক্কর বলেন, “অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে আমার জমির স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি চলাচলের দিক পরিবর্তন হয়ে কৃষিজমি ভেঙে যাচ্ছে। আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই জমি। এভাবে চলতে থাকলে আমি সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে যাব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার প্রতিবাদ করা হলেও অভিযুক্তরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি বহু কৃষক জমি হারিয়ে চরম বিপদের মুখে পড়বেন।
ভুক্তভোগী আবদু শুক্করসহ স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।