1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়েতে অনিচ্ছা, হবু স্বামীকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হবু স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক তরুণী ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে নির্ধারিত বিয়েতে অনিচ্ছুক ছিলেন ওই তরুণী। তবে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কেতন আগারওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোস্বালের বিয়ে আগামী নভেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। রাজস্থানের জয়পুরে একটি বিলাসবহুল ভেন্যু বুকিংসহ অনুষ্ঠানের জন্য কোটি কোটি রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিয়া গোস্বাল এই বিয়েতে সম্মত ছিলেন না। তবে তিনি পরিবারকে নিজের আপত্তির কথা জানাননি। বরং বিয়ে এড়াতে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন ছিল। ওই দিন ঘুরতে যাওয়ার অজুহাতে তিনি কেতনকে পুনের ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে নিয়ে যান। সেখানে এক পর্যায়ে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে গেছেন কেতন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টও করেন তিনি। তবে তদন্তের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ।

পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সঙ্গে সিয়ার প্রেমিকও জড়িত থাকতে পারেন। এরপর দুজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, নিহত কেতন আগারওয়ালের পরিবার ভারতের ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত। তার বাবা রাজস্থানের একজন খ্যাতনামা আবাসন ব্যবসায়ী। ছেলের বিয়েকে ঘিরে পরিবারটি বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বিয়েতে অনিচ্ছা, হবু স্বামীকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা

আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হবু স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক তরুণী ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে নির্ধারিত বিয়েতে অনিচ্ছুক ছিলেন ওই তরুণী। তবে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কেতন আগারওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোস্বালের বিয়ে আগামী নভেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। রাজস্থানের জয়পুরে একটি বিলাসবহুল ভেন্যু বুকিংসহ অনুষ্ঠানের জন্য কোটি কোটি রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিয়া গোস্বাল এই বিয়েতে সম্মত ছিলেন না। তবে তিনি পরিবারকে নিজের আপত্তির কথা জানাননি। বরং বিয়ে এড়াতে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন ছিল। ওই দিন ঘুরতে যাওয়ার অজুহাতে তিনি কেতনকে পুনের ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে নিয়ে যান। সেখানে এক পর্যায়ে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে গেছেন কেতন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টও করেন তিনি। তবে তদন্তের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ।

পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সঙ্গে সিয়ার প্রেমিকও জড়িত থাকতে পারেন। এরপর দুজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, নিহত কেতন আগারওয়ালের পরিবার ভারতের ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত। তার বাবা রাজস্থানের একজন খ্যাতনামা আবাসন ব্যবসায়ী। ছেলের বিয়েকে ঘিরে পরিবারটি বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।