1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ায় অর্থ আত্মসাৎ মামলা: নোহালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবের কারাদণ্ড

সামছুল হক, গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রংপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোঃ বদরুল আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আদালত রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে উভয় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।রায়ে প্রধান আসামি মোঃ আবুল কালাম আজাদ টিটুল, যিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় ।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে বিজ্ঞ আদালত আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ প্রদান করে। একইসঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎকৃত রাষ্ট্রীয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেন।
এ মামলার অপর আসামি চন্দ্র শেখর রায়। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতেন। আদালত মনে করেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও সম্পৃক্ততার দায় এড়াতে পারেননি।
ফলে আদালত চন্দ্র শেখর রায়কে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত আরও আদেশ দেন, বর্তমানে পলাতক থাকা আসামিরা আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হওয়ার দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে কাটানো সময় চূড়ান্ত সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের কপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ রায়কে স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি দুর্নীতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামছুল হক
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

গঙ্গাচড়ায় অর্থ আত্মসাৎ মামলা: নোহালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৯:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রংপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোঃ বদরুল আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আদালত রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে উভয় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।রায়ে প্রধান আসামি মোঃ আবুল কালাম আজাদ টিটুল, যিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় ।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে বিজ্ঞ আদালত আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ প্রদান করে। একইসঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎকৃত রাষ্ট্রীয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেন।
এ মামলার অপর আসামি চন্দ্র শেখর রায়। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতেন। আদালত মনে করেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও সম্পৃক্ততার দায় এড়াতে পারেননি।
ফলে আদালত চন্দ্র শেখর রায়কে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত আরও আদেশ দেন, বর্তমানে পলাতক থাকা আসামিরা আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হওয়ার দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে কাটানো সময় চূড়ান্ত সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের কপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ রায়কে স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি দুর্নীতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামছুল হক
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি