1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবীগঞ্জে ২১লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার সবুজপাড়া এলাকায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি আরসিসি (RCC) সড়কের ঢালাই কাজ দিনের আলোতে শেষ না করে রাত ১০টা পর্যন্ত চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিনের আলোতেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। মাগরিবের পর থেকে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ পৌরসভার সবুজপাড়া বিদ্যুতের বাড়ি থেকে মিথিলা অটো শোরুমের সামনে এলএসডি রোড পর্যন্ত ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ এন্টারপ্রাইজ।
রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য ঢালাই করা সড়কের ওপর পানি জমে রয়েছে। সড়কের ওপর পা রাখতেই কাঁচা কংক্রিট কিছুটা দেবে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় কাজ শুরু হলেও রাত ১০টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলে। তাদের প্রশ্ন, দিনের আলো শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাকি অংশের ঢালাই পরদিন করা যেত। তাহলে রাতেই কাজ শেষ করার প্রয়োজন কেন হলো? তাছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকলে নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিকভাবে নিশ্চিত হলো কীভাবে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাত ১০টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। কিন্তু কোনো ইঞ্জিনিয়ারকে দেখতে পাইনি। কাজ ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে, সেটা দেখারও কেউ ছিল না।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াদ আলী বলেন, “গতকাল কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছিল, তাই শেষ করতেও দেরি হয়েছে। আমি মাগরিবের আগে পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। পৌরসভার স্টাফ আলিফ সার্বক্ষণিক সেখানে ছিল।”
পৌরসভার ইলেকট্রিশিয়ান আলিফ প্রকৌশলী নন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার তো আর সারাদিন থাকবে না। শুধু বিরোধিতা করার জন্য নিউজ করিয়েন না। এলাকার একটি উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। কাজের মান ভালো হয়েছে। এটা নিয়ে আপত্তি থাকার কথা না।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আল ফাহাদ জোহা বলেন, “সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলেছে। এটা আমি স্বীকার করছি। আমাকে পারমিশন দেওয়া হয়েছে বলেই কাজ করেছি। পারমিশন আছে কি না, কে দিয়েছে—এসব জানতে হলে ইঞ্জিনিয়ার স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল্লাহ বিন জিয়া বলেন, “গতকাল বিকেলে আমি কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল, তারা সেদিনের মতো কাজ শেষ করবে। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত কেন কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে ঠিকাদারের কাছে জানতে চাইব। প্রয়োজনে প্রকৌশলীকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজের মান যাচাই করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে কাজের সময়, তদারকি ও অনুমতির বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ফলে ২১ লাখ টাকার এই সড়ক নির্মাণকাজ নির্ধারিত নিয়ম ও যথাযথ তদারকির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেবীগঞ্জে ২১লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার সবুজপাড়া এলাকায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি আরসিসি (RCC) সড়কের ঢালাই কাজ দিনের আলোতে শেষ না করে রাত ১০টা পর্যন্ত চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিনের আলোতেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। মাগরিবের পর থেকে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ পৌরসভার সবুজপাড়া বিদ্যুতের বাড়ি থেকে মিথিলা অটো শোরুমের সামনে এলএসডি রোড পর্যন্ত ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ এন্টারপ্রাইজ।
রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য ঢালাই করা সড়কের ওপর পানি জমে রয়েছে। সড়কের ওপর পা রাখতেই কাঁচা কংক্রিট কিছুটা দেবে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় কাজ শুরু হলেও রাত ১০টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলে। তাদের প্রশ্ন, দিনের আলো শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাকি অংশের ঢালাই পরদিন করা যেত। তাহলে রাতেই কাজ শেষ করার প্রয়োজন কেন হলো? তাছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকলে নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিকভাবে নিশ্চিত হলো কীভাবে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাত ১০টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। কিন্তু কোনো ইঞ্জিনিয়ারকে দেখতে পাইনি। কাজ ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে, সেটা দেখারও কেউ ছিল না।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াদ আলী বলেন, “গতকাল কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছিল, তাই শেষ করতেও দেরি হয়েছে। আমি মাগরিবের আগে পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। পৌরসভার স্টাফ আলিফ সার্বক্ষণিক সেখানে ছিল।”
পৌরসভার ইলেকট্রিশিয়ান আলিফ প্রকৌশলী নন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার তো আর সারাদিন থাকবে না। শুধু বিরোধিতা করার জন্য নিউজ করিয়েন না। এলাকার একটি উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। কাজের মান ভালো হয়েছে। এটা নিয়ে আপত্তি থাকার কথা না।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আল ফাহাদ জোহা বলেন, “সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলেছে। এটা আমি স্বীকার করছি। আমাকে পারমিশন দেওয়া হয়েছে বলেই কাজ করেছি। পারমিশন আছে কি না, কে দিয়েছে—এসব জানতে হলে ইঞ্জিনিয়ার স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল্লাহ বিন জিয়া বলেন, “গতকাল বিকেলে আমি কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল, তারা সেদিনের মতো কাজ শেষ করবে। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত কেন কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে ঠিকাদারের কাছে জানতে চাইব। প্রয়োজনে প্রকৌশলীকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজের মান যাচাই করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে কাজের সময়, তদারকি ও অনুমতির বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ফলে ২১ লাখ টাকার এই সড়ক নির্মাণকাজ নির্ধারিত নিয়ম ও যথাযথ তদারকির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।