সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নৌপথে অচলাবস্থা: সন্দ্বীপ ফেরিঘাটে আটকা শতাধিক যানবাহন, ভোগান্তির শেষ নেই
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন ধরে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌপথে যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল। অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক সপ্তাহ ধরে শিপ মালঞ্চ চলাচলও বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এতে সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপগামী এবং সন্দ্বীপ থেকে সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ফেরি কপোতাক্ষ-এ পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা। শনিবার বিকেলে গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালে শতাধিক ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে আছে।
আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও ঘাট এলাকায় তাদের থাকার জন্য কোনো হোটেল, রেস্টুরেন্ট কিংবা বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা নেই। এমনকি প্রয়োজনীয় ওয়াশরুম ও গোসলের সুবিধাও না থাকায় মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটেও। সেখানে সন্দ্বীপগামী শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন আটকা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকায় কাঁচামাল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ফেরিঘাটে আটকে পড়া চালক ও যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















