জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খামেনি
ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান।
মাশহাদেই ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খামেনি। জন্মভূমিতেই তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকলেও তার মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি শোকানুষ্ঠান ও দাফনে অংশ নিতে পারেননি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
বৃহস্পতিবার মরদেহ মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হলে লাখো মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। শোকাহত মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। মরদেহবাহী গাড়ির দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হেঁটে যান।
খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। এছাড়া তার অপর দুই ছেলে মাসুদ ও মেইসাম খামেনিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন এবং প্রায় ৩৭ বছর ওই দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: রয়টার্স



























