স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, পরকীয়ার অভিযোগের জেরে নিহত ঈশ্বরগঞ্জের রেল কর্মকর্তা
স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরই মধ্যে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধে রাজধানীর মহাখালীতে নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ছেলে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০ম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া (৩০)। সরকারি চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১০ দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামুনের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা বলে পুলিশের দাবি করা বিউটি আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বনানী থানার মহাখালী টিভি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিউটি আক্তার ওই বাসাটি ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে মামুন সেখানে গেলে দুজনের মধ্যে বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুন গুরুতর আহত হন। বাড়ির মালিক মো. সুমন মাহমুদ তাকে প্রথমে গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বাড়ির মালিক মো. সুমন মাহমুদ জানান, মামুনের চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার পেটে দুটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া তার পুরুষাঙ্গেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিউটি আক্তারকে আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মামুন ও বিউটির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয়েরই পৃথক সংসার রয়েছে। বিউটি মামুনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারেক হাসান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মনোমালিন্যের একপর্যায়ে বিউটি আক্তার ধারালো অস্ত্র দিয়ে মামুনকে আঘাত করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত মামুন মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিয়াটি গ্রামের বাবুল আহমেদের ছেলে। তিনি গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি মাসের ১ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১০ম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়া জানান, মামুনের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
























