1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় সুদিন ফিরছে পাট চাষে

মোঃ আব্দুল আলীম, প্রতিনিধি, বগুড়া: 
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একসময় দেশের কৃষকের জীবিকার অবলম্বন ছিল পাট। সোনালি আঁশ নামে পরিচিত এই ফসলের গৌরবময় অতীত থাকলেও ন্যায্য মূল্যের সংকট, পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছিলেন কৃষকরা। তবে সময়ের পরিবর্তনে আবারও বদলাতে শুরু করেছে সেই চিত্র।  
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দামের কারণে কৃষকদের মধ্যে আবারও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
ফলে বগুড়ায় সেই সোনালি দিনগুলো ফিরতে শুরু করেছে।  
চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ পাটগাছের সারি এখন কৃষকের নতুন স্বপ্নের প্রতীক। কোথাও কোথাও আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়েছে।
আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ।
কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষকদের বাড়তি আগ্রহের কারণে এবার উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১১হাজার ৮৮৬ বেল।
এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমি। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। জেলায় স্বল্প পরিসরে পাট কর্তন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে পুরোদমে পাট কর্তন করবেন স্থানীয় কৃষকরা। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাটের বীজ বপন করা হয়।
আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়। শ্রাবণ-ভাদ্রজুড়ে পুরোদমে চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ।
জানা যায়, সোনালী আঁশের সবুজ গাছে স্বপ্ন বুনে কৃষক। কম খরচে লাভবান হওয়ায় প্রতিবছরই জেলায় পাট চাষ হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বাজারে ভালো দাম থাকায় চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আগ্রহও বেড়ে গেছে। উন্নত জাতের বীজ, কৃষকদের আগ্রহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাট শুধু অর্থকরী ফসল নয়, এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে। তবে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে পাটের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবং পাটের বাম্পার ফলনে গত বছর থেকেই কৃষকেরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। ফলে এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে পাটচাষ করেছেন। বিগত কয়েকবছর কৃষকরা বাজারে পাটের দাম ভালো পাননি। কিন্তু গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তারা দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে পাটচাষ করেছেন। কৃষকরা আগাম জাতের পাটগাছ কর্তন করা শুরু করে দিয়েছেন। অনেকেই আবার পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে তা বাজারে বিক্রি করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলার পারতিত পরল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ৬ বিঘা জমিতে পাটচাষ লাভবান হয়েছি। এ বছর ৮ বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছি। পাটগাছগুলো পরিপক্ক এবং ভালো হওয়ায় কর্তন করা শুরু করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বাজারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। এ দরে পাট বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ হবে। সোনালী আঁশের সেই সুদিন আবারো ফিরতে শুরু করেছে। ওই এলাকার আরেক কৃষক বলেন, শ্রমিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি। অনেক এলাকায় খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কৃষক বিকল্প উপায়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজিত চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১১হাজার ৮৮৬ বেল। এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমি। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর থেকে কৃষকেরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে পাটচাষ করা শুরু করে দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা তারা বাজারজাত করে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় সুদিন ফিরছে পাট চাষে

আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

একসময় দেশের কৃষকের জীবিকার অবলম্বন ছিল পাট। সোনালি আঁশ নামে পরিচিত এই ফসলের গৌরবময় অতীত থাকলেও ন্যায্য মূল্যের সংকট, পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছিলেন কৃষকরা। তবে সময়ের পরিবর্তনে আবারও বদলাতে শুরু করেছে সেই চিত্র।  
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দামের কারণে কৃষকদের মধ্যে আবারও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
ফলে বগুড়ায় সেই সোনালি দিনগুলো ফিরতে শুরু করেছে।  
চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ পাটগাছের সারি এখন কৃষকের নতুন স্বপ্নের প্রতীক। কোথাও কোথাও আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়েছে।
আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ।
কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষকদের বাড়তি আগ্রহের কারণে এবার উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১১হাজার ৮৮৬ বেল।
এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমি। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। জেলায় স্বল্প পরিসরে পাট কর্তন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে পুরোদমে পাট কর্তন করবেন স্থানীয় কৃষকরা। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাটের বীজ বপন করা হয়।
আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়। শ্রাবণ-ভাদ্রজুড়ে পুরোদমে চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ।
জানা যায়, সোনালী আঁশের সবুজ গাছে স্বপ্ন বুনে কৃষক। কম খরচে লাভবান হওয়ায় প্রতিবছরই জেলায় পাট চাষ হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বাজারে ভালো দাম থাকায় চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আগ্রহও বেড়ে গেছে। উন্নত জাতের বীজ, কৃষকদের আগ্রহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাট শুধু অর্থকরী ফসল নয়, এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে। তবে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে পাটের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবং পাটের বাম্পার ফলনে গত বছর থেকেই কৃষকেরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। ফলে এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে পাটচাষ করেছেন। বিগত কয়েকবছর কৃষকরা বাজারে পাটের দাম ভালো পাননি। কিন্তু গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তারা দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে পাটচাষ করেছেন। কৃষকরা আগাম জাতের পাটগাছ কর্তন করা শুরু করে দিয়েছেন। অনেকেই আবার পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে তা বাজারে বিক্রি করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলার পারতিত পরল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ৬ বিঘা জমিতে পাটচাষ লাভবান হয়েছি। এ বছর ৮ বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছি। পাটগাছগুলো পরিপক্ক এবং ভালো হওয়ায় কর্তন করা শুরু করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বাজারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। এ দরে পাট বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ হবে। সোনালী আঁশের সেই সুদিন আবারো ফিরতে শুরু করেছে। ওই এলাকার আরেক কৃষক বলেন, শ্রমিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি। অনেক এলাকায় খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কৃষক বিকল্প উপায়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজিত চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১১হাজার ৮৮৬ বেল। এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমি। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর থেকে কৃষকেরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে পাটচাষ করা শুরু করে দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা তারা বাজারজাত করে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।