1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‌‘গো-রক্ষকদের’ সাজা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে বিচারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অনলাইন হুমকি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ জুন দেওয়া রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ২০২২ সালে ৫০ বছর বয়সী নাজির আহমদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা ও বেআইনিভাবে পথরোধের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু পরিবহনের সময় গরু পাচারের অভিযোগ তুলে একদল তথাকথিত ‘গো-রক্ষক’ নাজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। পরে নাজির আহমদের মৃত্যু হলেও তার দুই সঙ্গী বেঁচে যান এবং আদালতে সাক্ষ্য দেন।

রায়ে বিচারক খান ঘটনাটিকে দলবদ্ধভাবে সংঘটিত পিটিয়ে হত্যার (মব লিঞ্চিং) স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারক তাবাসসুম খানকে লক্ষ্য করে অসংখ্য আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে রায়ের সমালোচনা করা হয় এবং তাকে প্রাণনাশ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়। কিছু ভিডিওতে দণ্ডিতদের মুক্তি না দিলে সহিংসতারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) বিচারকের প্রতি দেওয়া হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তার রায়ের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বিচার ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক। তার মতে, বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন হওয়া উচিত আইনি যুক্তির ভিত্তিতে, বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার সেল উসকানিমূলক ভিডিও ও পোস্টের উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

এদিকে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে রাজ্যের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি তার পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার নির্দেশও দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

‌‘গো-রক্ষকদের’ সাজা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে বিচারক

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ভারতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অনলাইন হুমকি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ জুন দেওয়া রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ২০২২ সালে ৫০ বছর বয়সী নাজির আহমদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা ও বেআইনিভাবে পথরোধের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু পরিবহনের সময় গরু পাচারের অভিযোগ তুলে একদল তথাকথিত ‘গো-রক্ষক’ নাজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। পরে নাজির আহমদের মৃত্যু হলেও তার দুই সঙ্গী বেঁচে যান এবং আদালতে সাক্ষ্য দেন।

রায়ে বিচারক খান ঘটনাটিকে দলবদ্ধভাবে সংঘটিত পিটিয়ে হত্যার (মব লিঞ্চিং) স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারক তাবাসসুম খানকে লক্ষ্য করে অসংখ্য আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে রায়ের সমালোচনা করা হয় এবং তাকে প্রাণনাশ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়। কিছু ভিডিওতে দণ্ডিতদের মুক্তি না দিলে সহিংসতারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) বিচারকের প্রতি দেওয়া হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তার রায়ের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বিচার ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক। তার মতে, বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন হওয়া উচিত আইনি যুক্তির ভিত্তিতে, বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার সেল উসকানিমূলক ভিডিও ও পোস্টের উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

এদিকে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে রাজ্যের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি তার পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার নির্দেশও দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি