1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাগঞ্জে ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুবাহী ট্রাকের চাপে ভেঙে গেল ড্রেন ও রাস্তা, দুর্ভোগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

মোঃ মুঈদ চৌধুরী, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বালুবাহী ভারী ট্রাকের চাপে ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত, ধসে যাচ্ছে হেরিংবোন রাস্তা হাঁটু পানিতে দুর্ভোগে এলাকাবাসী, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস ইউএনওর

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নে অবস্থিত তারাগঞ্জ ওয়াকফ স্টেট সরকারি কলেজের প্রধান প্রবেশদ্বারের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকায় চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও, ভেঙে পড়া ড্রেনের সঙ্গে থাকা ইটের তৈরি হেরিং বোন বন্ড রাস্তাটিও ধীরে ধীরে ধসে যাচ্ছে। ড্রেনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার ইট দেবে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে রাস্তার আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাগঞ্জ নতুন চৌপতিতে নির্মাণাধীন রংপুর সড়ক বিভাগ (সওজ) এর অধীনে নির্মিত ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত বালুবাহী ভারী ট্রাক ড্রেনের ওপর দিয়ে চলাচল করায় ড্রেনটি ভেঙে যায়। একই সঙ্গে পাশের ছোট উন্মুক্ত ড্রেনেও বালু পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এই ড্রেনটি ছিল তারাগঞ্জ ওয়াকফ স্টেট সরকারি কলেজ মাঠের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কলেজ মাঠের একাংশ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ায় একটি বসতবাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। একই সঙ্গে পাশেই অবস্থিত তারাগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুলের সামনে ও পানি জমে রয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাদা ও পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ির সামনে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানিতে মশা, বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় এবং বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের এই নোংরা পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

একজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঠিকমতো বের হতে পারি না। তবুও জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে এই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেনটি সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রংপুর সড়ক বিভাগ (সওজ) এর অধীনে চলমান নতুন চৌপুতির ড্রেনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচল করার সময় অতিরিক্ত ওজন সহ্য করতে না পেরে কলেজের সামনে থাকা ড্রেনটি ভেঙে পড়েছে। এর ফলেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, তারাগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন কাদা ও পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আগে বৃষ্টির পরও স্কুলের সামনে খেলাধুলা করা যেত, কিন্তু এখন মাঠ ও আশপাশ সবসময় পানিতে ডুবে থাকায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, স্কুলের দেয়ালের গা ঘেঁষে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তারা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে। কারণ, জমে থাকা পানিতে একাধিকবার বিষধর সাপ দেখা গেছে। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে রংপুর সড়ক বিভাগের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হেনার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর দপ্তরে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হওয়ার আগেই ভেঙে পড়া ড্রেনটি সংস্কার এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হোক। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোঃ মুঈদ চৌধুরী
তারাগঞ্জ, রংপুর
১৪ জুলাই , ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

তারাগঞ্জে ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুবাহী ট্রাকের চাপে ভেঙে গেল ড্রেন ও রাস্তা, দুর্ভোগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০১:৩৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বালুবাহী ভারী ট্রাকের চাপে ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত, ধসে যাচ্ছে হেরিংবোন রাস্তা হাঁটু পানিতে দুর্ভোগে এলাকাবাসী, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস ইউএনওর

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নে অবস্থিত তারাগঞ্জ ওয়াকফ স্টেট সরকারি কলেজের প্রধান প্রবেশদ্বারের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকায় চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও, ভেঙে পড়া ড্রেনের সঙ্গে থাকা ইটের তৈরি হেরিং বোন বন্ড রাস্তাটিও ধীরে ধীরে ধসে যাচ্ছে। ড্রেনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার ইট দেবে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে রাস্তার আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাগঞ্জ নতুন চৌপতিতে নির্মাণাধীন রংপুর সড়ক বিভাগ (সওজ) এর অধীনে নির্মিত ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত বালুবাহী ভারী ট্রাক ড্রেনের ওপর দিয়ে চলাচল করায় ড্রেনটি ভেঙে যায়। একই সঙ্গে পাশের ছোট উন্মুক্ত ড্রেনেও বালু পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এই ড্রেনটি ছিল তারাগঞ্জ ওয়াকফ স্টেট সরকারি কলেজ মাঠের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কলেজ মাঠের একাংশ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ায় একটি বসতবাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। একই সঙ্গে পাশেই অবস্থিত তারাগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুলের সামনে ও পানি জমে রয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাদা ও পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ির সামনে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানিতে মশা, বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় এবং বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের এই নোংরা পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

একজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঠিকমতো বের হতে পারি না। তবুও জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে এই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেনটি সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রংপুর সড়ক বিভাগ (সওজ) এর অধীনে চলমান নতুন চৌপুতির ড্রেনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচল করার সময় অতিরিক্ত ওজন সহ্য করতে না পেরে কলেজের সামনে থাকা ড্রেনটি ভেঙে পড়েছে। এর ফলেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, তারাগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন কাদা ও পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আগে বৃষ্টির পরও স্কুলের সামনে খেলাধুলা করা যেত, কিন্তু এখন মাঠ ও আশপাশ সবসময় পানিতে ডুবে থাকায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, স্কুলের দেয়ালের গা ঘেঁষে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তারা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে। কারণ, জমে থাকা পানিতে একাধিকবার বিষধর সাপ দেখা গেছে। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে রংপুর সড়ক বিভাগের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হেনার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর দপ্তরে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হওয়ার আগেই ভেঙে পড়া ড্রেনটি সংস্কার এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হোক। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোঃ মুঈদ চৌধুরী
তারাগঞ্জ, রংপুর
১৪ জুলাই , ২০২৬