ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের জমি আত্মসাৎ এর অভিযোগ
বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার ০৬ নং ওয়ার্ডের মৃত সুরুজ মিয়ার মেয়ে জেসমিন আক্তার(৪৫) তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ কবির হোসেন (৪০) এর বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনকে বঞ্চিত করা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও নামজারিকৃত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে লামা উপজেলা পরিষদ সহ বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী জানান, লামা উপজেলা পরিষদে পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাবার আশায় আবেদন দিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছে। নবম শ্রেণিতে পড়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে নাম মাত্র বেতনে চাকরি করে কোনো রকম দিন যাপন করছেন।
অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, আমার বাবা মৃত সুরুজ মিয়া ২০০০ সালে মারা যায়। মারা যাবার পর থেকে ছোট ভাই কবির হোসেনের অধীনে সব ওয়ারিশদের সম্পত্তি বহাল তবিয়তে থাকে। ২০১৮ সালে চাচা ফরিদ আহমেদের উপস্থিতিতে ওয়ারিশদের মধ্যে জমি বন্টন করে সবার নামে নামজারি করা হয়। নামজারি করতে সকল টাকা সমানভাবে আমরা সব ওয়ারিশ বহন করেছি। বন্টনকৃত সম্পত্তি অনেক ওয়ারিশ নিজ দখল নিয়ে বসতভিটা গড়েছে আবার অনেকে জমি বিক্রি করে দিয়েছে। আমি আমার নিজ নামজারিকৃত জায়গা ছোট ভাই কবির হোসেনকে চাষবাস করার অনুমতি প্রদান করি। ২০২২ সালের দিকে ছোট ভাই কবির হোসেনকে আমার নামিও জায়গা বুঝে পাবার জন্য গেলে বিভিন্ন নয়ছয় বুঝিয়ে আমার বন্টনকৃত জায়গা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আসছে। ২০২৫ সালে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়ে শুনানিতে আমার নামিও জায়গার অভিযোগ সত্যি প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও কোনো মিমাংসা না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জমি সংক্রান্ত মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে আমার আয় খুবই সীমিত থাকায় মামলায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতারা তাদের দ্বায়সারা ভাব দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি নিরুপায় হয়ে হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। বর্তমানে ছোট ভাই কবির হোসেনের কাছে সম্পত্তি চাইতে গেলে সে সহ তাঁর ভাতিজারা আমাকে মারার জন্য আসে এবং জমি কিভাবে নিতে পারি তা দেখে নেয়ার হুমকি সহ বিভিন্ন গালিগালাজ করেছে । এখন পর্যন্ত আমি আমার বন্টনকৃত পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমার অসহায়ত্ব দেখে কবির হোসেন গং হুমকি দিচ্ছে মামলা করে জায়গা বুঝে নেয়ার জন্য। আমি সামান্য ৮ হাজার টাকা দামের চাকরি করে কবির হোসেন গংদের সাথে পেরে উঠা সম্ভব নয়। আমার নিজ নামে নামজারিকৃত জায়গা থাকার পরও জমি দখলে নিতে পারছি না, এমতাবস্থায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এবিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো: মঈন উদ্দিন বরাবর যোগাযোগ করলে ওনি বলেন, বিষয়টা আমি অবগত আছি। মহিলাটি অসহায়। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি শুনানি করেছি। বিবাদী কবির হোসেনকে জেসমিন আক্তাররে সম্পদ সঠিক বন্টন করে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। বিবাদী কবির হোসেন তার নিজ সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে জেসমিন আক্তারকে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে শুনানি শেষ করা হয়।


















