পদ্মা নদীর কিনারায় স্পিডবোটে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
নাটোরের লালপুর থানা এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারায় একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে মোাঃ আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ঝড়ু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনা পাড়া গ্রামের মো: আব্দুল শেখের ছেলে। তিনি চারঘাট এলাকায় জনৈক কাকনের বালুর পয়েন্টে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ ৯ জুন ২০২৬ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ১২:০০ টা থেকে ভোর ০৬:০০ টার মধ্যে যেকোনো সময় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ও রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন হবির চর নামক এলাকায় ‘বেলাল গ্রুপ’ ও ‘কাকন গ্রুপ’-এর মধ্যে বালি মহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় আজিজুল হক ঝড়ু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরবর্তীতে কে বা কাহারা তাকে একটি স্পিডবোটে করে লালপুর থানাধীন চর জাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর কিনারায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ সকাল থেকেই হবির চর থেকে শুরু করে লালপুর থানা সীমানার বিভিন্ন চরে ও নদীর কিনারায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর আজ বিকেলে আনুমানিক ০৩:৩০ ঘটিকার সময় চর জাজিরা মৌজায় পদ্মা নদীর কিনারায় একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে ওই যুবকের লাশ সনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত ঝড়ুর বাম চোখের ওপরের পাশে গুলি লেগে মাথার অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে এবং স্পিডবোটের ভেতর প্রচুর রক্তের দাগ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ ছাড়াও নিচে সবুজ ও বডিতে নীল রঙ করা ১টি স্পিডবোট উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)। বর্তমানে লাশ প্রাপ্তির স্থানে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব খন্দকার শফিকুল ইসলাম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
প্রাথমিকভাবে বালি মহলের আধিপত্য ও শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ অনুমান করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















