1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকোম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকোম জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা দেওয়া হবে না এবং পূর্বে জারি করা সব ধরনের সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানি বন্দরগুলো আবারও উন্মুক্ত হয়ে গেল।

গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে ওয়াশিংটন।

তবে এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি ইস্যু। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধকে কার্যকর করতে প্রণালির বিভিন্ন অংশে জলমাইনও স্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামাবাদ চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর টানা দুই রাত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পথে রয়েছে।

ভ্যান্সের দাবি, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। যদিও এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে মোট প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা হয়।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাস পরিবহন করা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ ও সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। কেপলারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

সূত্র: সিএনবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকোম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকোম জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা দেওয়া হবে না এবং পূর্বে জারি করা সব ধরনের সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানি বন্দরগুলো আবারও উন্মুক্ত হয়ে গেল।

গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে ওয়াশিংটন।

তবে এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি ইস্যু। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধকে কার্যকর করতে প্রণালির বিভিন্ন অংশে জলমাইনও স্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামাবাদ চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর টানা দুই রাত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পথে রয়েছে।

ভ্যান্সের দাবি, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। যদিও এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে মোট প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা হয়।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাস পরিবহন করা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ ও সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। কেপলারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

সূত্র: সিএনবিসি