1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার ভাঙনে হুমকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, আতঙ্কে ৫০ হাজার মানুষ

সামছুল হক, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি জলকপাট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তলিয়ে গেছে চরের শত শত একর ফসলি জমি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গতকালের তুলনায় আজ তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

পানি কিছুটা কমলেও নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধের অন্তত ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক সেতুসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মধ্যকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দা।

লক্ষীটারি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদি বলেন, এটা গত বছর যখন ভেঙে যাওয়া শুরু হয় তখন এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলানো হলে পরে আর এতটা ভাঙত না। গত বছর থেকে শুনতেছি বরাদ্দ আসবে, কিন্তু একটা বছর চলে গেলেও এক টাকার বরাদ্দও আসেনি। এখানে বুয়েটের একজন প্রবীণ বিশেষজ্ঞ এসে বাঁশের পাইলিং দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখানে কবি নজরুলের বালুর বাঁধ আর বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারের পাইলিং দুটোরই একই অবস্থা হয়েছে। বালুর বাঁধ যেমন টিকবে না, ইঞ্জিনিয়ারের অভিজ্ঞতায় করা বাঁশের পাইলিংও প্রথম ধাক্কায় টিকলো না। এখন দেখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। বাকিটা আল্লাহর উপর ভরসা।

গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, আগেও যখন এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল, তখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ঢাকার হেডকোয়ার্টার থেকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল এসে বাঁশের পাইলিং নির্মাণের পরামর্শ দেয়। এ কাজে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় সেই অংশও ভেঙে গেছে। বিষয়টি আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেহেতু এটি নদীভাঙন ও পানি প্রবাহ-সংক্রান্ত বিষয়, তাই বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১১০ মিটার অংশ নদীভাঙনে বিলীন হয়েছিল। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি কিছু জিও ব্যাগ দিলে আপাতত এটি রক্ষা করা যেতে পারে। ঢাকা থেকে যে ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন, তখনই আমরা বলেছিলাম এখানে বাঁশের পাইলিং টিকবে না। এখানে বাঁশের পাইলিং নয়, বরং বাঁশ আমাদেরই দিয়ে যাওয়া হবে। ১৫ লাখ টাকা নয়, দুই লাখ টাকার জিও ব্যাগ দিলেও এটি টিকে যেত।

এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সামছুল হক
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

তিস্তার ভাঙনে হুমকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, আতঙ্কে ৫০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ভারতের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি জলকপাট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তলিয়ে গেছে চরের শত শত একর ফসলি জমি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গতকালের তুলনায় আজ তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

পানি কিছুটা কমলেও নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধের অন্তত ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক সেতুসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মধ্যকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দা।

লক্ষীটারি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদি বলেন, এটা গত বছর যখন ভেঙে যাওয়া শুরু হয় তখন এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলানো হলে পরে আর এতটা ভাঙত না। গত বছর থেকে শুনতেছি বরাদ্দ আসবে, কিন্তু একটা বছর চলে গেলেও এক টাকার বরাদ্দও আসেনি। এখানে বুয়েটের একজন প্রবীণ বিশেষজ্ঞ এসে বাঁশের পাইলিং দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখানে কবি নজরুলের বালুর বাঁধ আর বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারের পাইলিং দুটোরই একই অবস্থা হয়েছে। বালুর বাঁধ যেমন টিকবে না, ইঞ্জিনিয়ারের অভিজ্ঞতায় করা বাঁশের পাইলিংও প্রথম ধাক্কায় টিকলো না। এখন দেখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। বাকিটা আল্লাহর উপর ভরসা।

গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, আগেও যখন এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল, তখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ঢাকার হেডকোয়ার্টার থেকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল এসে বাঁশের পাইলিং নির্মাণের পরামর্শ দেয়। এ কাজে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় সেই অংশও ভেঙে গেছে। বিষয়টি আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেহেতু এটি নদীভাঙন ও পানি প্রবাহ-সংক্রান্ত বিষয়, তাই বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১১০ মিটার অংশ নদীভাঙনে বিলীন হয়েছিল। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি কিছু জিও ব্যাগ দিলে আপাতত এটি রক্ষা করা যেতে পারে। ঢাকা থেকে যে ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন, তখনই আমরা বলেছিলাম এখানে বাঁশের পাইলিং টিকবে না। এখানে বাঁশের পাইলিং নয়, বরং বাঁশ আমাদেরই দিয়ে যাওয়া হবে। ১৫ লাখ টাকা নয়, দুই লাখ টাকার জিও ব্যাগ দিলেও এটি টিকে যেত।

এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সামছুল হক
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি