1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রাম মূর্তিসহ বিতর্কিত সব মূর্তি অপসারণের দাবিতে তারাগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি

মোঃ মুঈদ চৌধুরী তারাগঞ্জ, রংপুর
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অর্থায়নের উৎস তদন্ত, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ১৫ দফা দাবি উত্থাপন ইত্তেহাদুল উলামার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মূর্তিসহ বিতর্কিত সব মূর্তি অপসারণ, প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস তদন্ত, সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইত্তেহাদুল উলামা, তারাগঞ্জ, রংপুর শাখা।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ইউএনওর মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মূর্তিসহ বিভিন্ন আকৃতির মূর্তি নির্মাণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, পলাশবাড়ীতে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি, ২৮ ফুট উচ্চতার বিষ্ণু মূর্তি এবং শতাধিক ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ধরনের নির্মাণকাজের অর্থায়নের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং আইনগত বৈধতা তদন্তের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি ১৫ দফা দাবিতে উল্লেখ করে, বিতর্কিত মূর্তি ও স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত নির্মাণকাজ বন্ধ, অর্থায়নের উৎস ও বিদেশি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত, সম্ভাব্য বিদেশি অর্থ বা অবৈধ লেনদেন অনুসন্ধান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্তসংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রশাসনিক ব্যর্থতার তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পটির সঙ্গে কোনো বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সরকার যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় বরং দেশের আইন, শৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরবে।

মোঃ মুঈদ চৌধুরী
তারাগঞ্জ, রংপুর
১ জুলাই , ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রাম মূর্তিসহ বিতর্কিত সব মূর্তি অপসারণের দাবিতে তারাগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

অর্থায়নের উৎস তদন্ত, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ১৫ দফা দাবি উত্থাপন ইত্তেহাদুল উলামার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মূর্তিসহ বিতর্কিত সব মূর্তি অপসারণ, প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস তদন্ত, সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইত্তেহাদুল উলামা, তারাগঞ্জ, রংপুর শাখা।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ইউএনওর মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মূর্তিসহ বিভিন্ন আকৃতির মূর্তি নির্মাণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, পলাশবাড়ীতে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি, ২৮ ফুট উচ্চতার বিষ্ণু মূর্তি এবং শতাধিক ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ধরনের নির্মাণকাজের অর্থায়নের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং আইনগত বৈধতা তদন্তের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি ১৫ দফা দাবিতে উল্লেখ করে, বিতর্কিত মূর্তি ও স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত নির্মাণকাজ বন্ধ, অর্থায়নের উৎস ও বিদেশি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত, সম্ভাব্য বিদেশি অর্থ বা অবৈধ লেনদেন অনুসন্ধান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্তসংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রশাসনিক ব্যর্থতার তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পটির সঙ্গে কোনো বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সরকার যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় বরং দেশের আইন, শৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরবে।

মোঃ মুঈদ চৌধুরী
তারাগঞ্জ, রংপুর
১ জুলাই , ২০২৬