1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগেশ্বরীতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড: এসিল্যান্ডের বিচার নিয়ে আইনি বিতর্ক

মোঃ সাদিকুল ইসলাম, নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৪

নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাহাবুর রহমান (২৪) নামের এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থেকে এবং ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর এই সাজা দেওয়ায় মোবাইল কোর্ট আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না—তা নিয়ে তীব্র আইনি বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

​সোমবার (৩১ আগস্ট) নাগেশ্বরী দয়াময়ি (ডিএম) পাইলট একাডেমি চত্বরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মাহাবুর রহমান নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড় এলাকার ইছহাক আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় মাহাবুর রহমান তাঁর শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে আটক করে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ডিএম একাডেমি স্কুলে নিয়ে আসে। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত যুবকের বড় ভাই মাইদুল ইসলাম দাবি করেন, মাহাবুর গত চার বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন এবং তাঁর নিয়মিত চিকিৎসাও চলছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিচারবহির্ভূতভাবে তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের উপযুক্ত বিচারও দাবি করেন তিনি।

​অন্যদিকে, আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী অপরাধ অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্‌ঘাটিত হতে হয়। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে ছিলেন না এবং অপরাধও তাঁর সামনে ঘটেনি। ফলে দেড় ঘণ্টা পর এই সাজা প্রদান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি অবৈধ আটক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, “আমার সামনে অপরাধ সংঘটিত না হলেও আমি ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছি, যা মোবাইল কোর্ট আইনের এখতিয়ারভুক্ত। সুতরাং এখানে আইনের লঙ্ঘন হয়নি।” কতক্ষণ পর আদালত পরিচালনা করা হয়েছে তা বড় বিষয় নয় বলেও জানান তিনি।

​ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপরাধের তাৎক্ষণিক শাস্তির বিষয়টিকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও আইন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

নাগেশ্বরীতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড: এসিল্যান্ডের বিচার নিয়ে আইনি বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
৩৪

নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাহাবুর রহমান (২৪) নামের এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থেকে এবং ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর এই সাজা দেওয়ায় মোবাইল কোর্ট আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না—তা নিয়ে তীব্র আইনি বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

​সোমবার (৩১ আগস্ট) নাগেশ্বরী দয়াময়ি (ডিএম) পাইলট একাডেমি চত্বরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মাহাবুর রহমান নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড় এলাকার ইছহাক আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় মাহাবুর রহমান তাঁর শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে আটক করে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ডিএম একাডেমি স্কুলে নিয়ে আসে। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত যুবকের বড় ভাই মাইদুল ইসলাম দাবি করেন, মাহাবুর গত চার বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন এবং তাঁর নিয়মিত চিকিৎসাও চলছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিচারবহির্ভূতভাবে তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের উপযুক্ত বিচারও দাবি করেন তিনি।

​অন্যদিকে, আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী অপরাধ অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্‌ঘাটিত হতে হয়। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে ছিলেন না এবং অপরাধও তাঁর সামনে ঘটেনি। ফলে দেড় ঘণ্টা পর এই সাজা প্রদান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি অবৈধ আটক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, “আমার সামনে অপরাধ সংঘটিত না হলেও আমি ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছি, যা মোবাইল কোর্ট আইনের এখতিয়ারভুক্ত। সুতরাং এখানে আইনের লঙ্ঘন হয়নি।” কতক্ষণ পর আদালত পরিচালনা করা হয়েছে তা বড় বিষয় নয় বলেও জানান তিনি।

​ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপরাধের তাৎক্ষণিক শাস্তির বিষয়টিকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও আইন সংশ্লিষ্টরা।