জুলাই শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবার কান্না—ব্রিজের সাইনবোর্ড থেকে ছেলের নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আয়াতুল্লাহর স্মৃতি ধরে রাখতে তৎকালীন জেলা ও উপজেলা প্রশাসক ও স্হানীয়দের উপস্থিতিতে মধ্যনগর নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নামকরণ করা হয় “শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু”এবং তাতে প্রাথমিক ভাবে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামে সাইনবোর্ড স্হাপন করা হয়। গতরাতে (৪সেপ্টেম্বর) দুষ্কৃতিকারীরা স্প্রে দিয়ে তাঁর নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা।
ছেলের নাম মুছে দেওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মধ্যনগর থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন আমার ছেলে দেশকে ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন থেকে রক্ষার জন্য জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে। তার সম্মানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিজের নামকরণ করে সাইনবোর্ড স্হাপন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আয়াতুল্লাহ শহীদ হওয়ার পর তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রিজের সাইনবোর্ডে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ড থেকে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম মুছে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি জানার পর শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা ব্রিজের কাছে গিয়ে ছেলের নাম মুছে ফেলার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্না ও আহাজারিতে স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়।
শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। সেতুর সাইনবোর্ড থেকে তার নাম মুছে ফেললে একজন বাবার কষ্ট কতটা হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি আমার ছেলের নামের মর্যাদা ও স্মৃতি রক্ষার দাবি জানাই।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন জুলাই শহীদের নাম মুছে দেওয়া শুধু একটি সাইনবোর্ডের নয়; এটি শহীদের স্মৃতি ও পরিবারের অনুভূতিতে আঘাত। তারা দ্রুত সাইনবোর্ডটি পুনঃস্থাপন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন — লিখিত অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























