1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধান সংগ্রহে জালিয়াতি: নেত্রকোনায় এলএসডি কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি

পলাশ পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬৮

কৃষকদের তালিকা তৈরিতে জালিয়াতি, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট থেকে বারবার ধান কিনে সরকারি অর্থ ছাড় ও তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
​দুর্গাপুরের বিরিশিরি স্থানীয় সরবরাহ ডিপোর (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিরিশিরি এলএসডি গুদামে ‘অভ্যন্তরীণ ধান সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ তোয়াক্কা না করেই ধান কেনা হচ্ছিল। কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন ও প্রকৃত কৃষক শনাক্ত ছাড়াই কেবল এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হতো। নিবন্ধিত তালিকার ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার ধান কিনে বিল পরিশোধের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল।
খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁর পূর্বের বরিশাল বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। বিধি অনুযায়ী বরখাস্তকালীন তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।
​অন্যদিকে সঠিক তদারকি না করায় গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মোয়েতাছেমুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করলেও তাঁর দাবি, এটি একটি ‘নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি’।
​ঘটনার পর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ সংক্রান্ত কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
​জেলায় খাদ্য কেলেঙ্কারির ধারাবাহিকতা
নেত্রকোনায় সরকারি চাল ও খাদ্যশস্য নিয়ে অনিয়ম নতুন নয়। চলতি বছরেই মদন উপজেলায় দুই দফায় পাচারকালে ২৫ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (গত ১৪ মে ২০ টন এবং ৪ সেপ্টেম্বর ৫ টন)। এছাড়া গত বছরের ২১ জুন কেন্দুয়ায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করেছিল সেনাবাহিনী।
​খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের ধান সংগ্রহে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে বিভাগীয় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

ধান সংগ্রহে জালিয়াতি: নেত্রকোনায় এলএসডি কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬৮

কৃষকদের তালিকা তৈরিতে জালিয়াতি, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট থেকে বারবার ধান কিনে সরকারি অর্থ ছাড় ও তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
​দুর্গাপুরের বিরিশিরি স্থানীয় সরবরাহ ডিপোর (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিরিশিরি এলএসডি গুদামে ‘অভ্যন্তরীণ ধান সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ তোয়াক্কা না করেই ধান কেনা হচ্ছিল। কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন ও প্রকৃত কৃষক শনাক্ত ছাড়াই কেবল এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হতো। নিবন্ধিত তালিকার ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার ধান কিনে বিল পরিশোধের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল।
খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁর পূর্বের বরিশাল বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। বিধি অনুযায়ী বরখাস্তকালীন তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।
​অন্যদিকে সঠিক তদারকি না করায় গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মোয়েতাছেমুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করলেও তাঁর দাবি, এটি একটি ‘নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি’।
​ঘটনার পর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ সংক্রান্ত কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
​জেলায় খাদ্য কেলেঙ্কারির ধারাবাহিকতা
নেত্রকোনায় সরকারি চাল ও খাদ্যশস্য নিয়ে অনিয়ম নতুন নয়। চলতি বছরেই মদন উপজেলায় দুই দফায় পাচারকালে ২৫ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (গত ১৪ মে ২০ টন এবং ৪ সেপ্টেম্বর ৫ টন)। এছাড়া গত বছরের ২১ জুন কেন্দুয়ায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করেছিল সেনাবাহিনী।
​খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের ধান সংগ্রহে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে বিভাগীয় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।