1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫; ৪ জন রংপুরে রেফার

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৪

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বের হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড় এলাকায় পৌঁছালে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের প্রভাবে পঞ্চগড়ের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। রাতের ব্যস্ত সময়ে সড়কে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সরে যান। রাত ১২টার পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জনের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আব্দুল বাতেন, শামীম, জীবন, সাফাত কবির, সাক্ষর, পাক্কু, ময়নুল, তপু, মিলন, সৌমিক, ফরহাদ, করিম আখতার, জিসান ও নুরনবী চৌধুরী রয়েছেন। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের মাথায় আঘাত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের সংঘর্ষের আগে রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরে দিনের ওই উত্তেজনার জের ধরে রাতে মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
ঘটনার পর পঞ্চগড় শহরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই দলের দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:০৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫; ৪ জন রংপুরে রেফার

আপডেট সময় : ০২:৫০:০৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৪

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বের হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড় এলাকায় পৌঁছালে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের প্রভাবে পঞ্চগড়ের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। রাতের ব্যস্ত সময়ে সড়কে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সরে যান। রাত ১২টার পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জনের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আব্দুল বাতেন, শামীম, জীবন, সাফাত কবির, সাক্ষর, পাক্কু, ময়নুল, তপু, মিলন, সৌমিক, ফরহাদ, করিম আখতার, জিসান ও নুরনবী চৌধুরী রয়েছেন। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের মাথায় আঘাত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের সংঘর্ষের আগে রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরে দিনের ওই উত্তেজনার জের ধরে রাতে মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
ঘটনার পর পঞ্চগড় শহরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই দলের দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।