1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমির ১৩ শতক দাবি করে বাধা, দলিল-রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি প্রকৃত মালিকের

রাব্বি রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারী সদর উপজেলার ভেরাডাঙ্গা সরকারপাড়া এলাকায় ৪৬ শতক জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ফরিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ওই জমির ১৩ শতাংশ অংশ নিজের বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে, জমির মালিক জয়নুল আবেদিনের দাবি, তিনি বৈধভাবে জমিটি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষের প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তিনি ওই জমিতে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জয়নুল আবেদিন। জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।

জয়নুল আবেদিনের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সি.এস. ১৮৭ নম্বর খতিয়ানের ৪৪৪০ দাগে ২৬ শতক এবং ৪৪৪৫ দাগে ২০ শতক, মোট ৪৬ শতক জমির মালিক ছিলেন সাহাব উদ্দিন। সাহাব উদ্দিন মারা গেলে তার ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে ইউনুস আলী সরকার সম্পত্তির মালিক হন বলে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ইউনুস আলী সরকার ওই জমি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ২২ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে ৫২৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতক এবং ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকসহ মোট ৪৬ শতক জমি আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর নামে এস.এ. ২২১ নম্বর খতিয়ান প্রকাশিত হয় বলে কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এরপর আব্দুল মজিদ ৪৪৪০ দাগে ১৩ শতক ও ৪৪৪৫ দাগে ১০ শতক এবং আজাদ আলী ৪৪৪০ দাগে ১৩ শতক ও ৪৪৪৫ দাগে ১০ শতক জমি ভোগদখল করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ অক্টোবর ২০১১ সালে ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আজাদ আলী তার ৪৪৪০ দাগের ১৩ শতক জমির মধ্য থেকে ১০ শতক জমি জয়নুল আবেদিনের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তর করেন বলে দলিলের তথ্য থেকে জানা যায়।

ফলে ৪৪৪০ দাগের মোট ২৬ শতক জমির মধ্যে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক, জয়নুল আবেদিনের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর অবশিষ্ট ৩ শতক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৪৪৪৫ দাগের মোট ২০ শতকের মধ্যে আব্দুল মজিদের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ১০ শতক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলে, হামিদুর ইসলাম, রশিদুল ইসলাম এবং তার এক ছেলে রেকর্ডের সূত্র ধরে ১৩ শতক জমির দাবি করছেন বলে অভিযোগ জয়নুল আবেদিনের।

জমির মালিকানা বিষয়ে একাধিকবার থানা ও আদালতে বিষয়টি নিয়ে বিচার হয়েছে। কিন্তু ফরিদ হোসেন কিংবা তার ছেলেরা তাদের দাবির পক্ষে কোনো দলিল বা মালিকানা প্রমাণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

জয়নুল আবেদিন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালত থেকে তিনি একটি আদেশও পেয়েছেন। তবে ওই আদেশের পরও জমিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ তার।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার সময় থেকেই আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। পরবর্তীতে দলিলের মাধ্যমে আমি জমি কিনেছি। ২০১১ সালের ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আজাদ আলীর কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনে দখল বুঝে নিয়েছি।

তিনি জানান, ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলে রেকর্ডের কথা বলে ১৩ শতক জমি দাবি করছেন। কিন্তু এ নিয়ে কয়েকবার থানা ও আদালতে বিচার হলেও তারা তাদের দাবির পক্ষে কোনো দলিল বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আদালতের আদেশও রয়েছে। তারপরও আমি জমির কাছে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে বাধা দেওয়া হয়।

জয়নুল আবেদিনের অভিযোগ, নিজের বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে যেতে না পারায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দলিল, খতিয়ান ও সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

জয়নুল আবেদিনের দেওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ৫২৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ইউনুস আলী সরকার থেকে আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর কাছে ৪৬ শতক জমি হস্তান্তর হয়। পরবর্তীতে আজাদ আলীর অংশ থেকে ২০১১ সালের ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ১০ শতক জমি জয়নুল আবেদিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতক জমিতে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক, জয়নুল আবেদিনের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ৩ শতক থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। আর ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকে আব্দুল মজিদের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ১০ শতক থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে বর্তমানে ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলের পক্ষ থেকে ১৩ শতক জমির দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়নুল আবেদিন।

জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দাবির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সরকারি রেকর্ড, মূল দলিল, খতিয়ান এবং আদালতের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে জয়নুল আবেদিনের অভিযোগ, কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে নিজের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়, ফরিদ হোসেন ও তারা ছেলেদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কোনভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জমির ১৩ শতক দাবি করে বাধা, দলিল-রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি প্রকৃত মালিকের

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারী সদর উপজেলার ভেরাডাঙ্গা সরকারপাড়া এলাকায় ৪৬ শতক জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ফরিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ওই জমির ১৩ শতাংশ অংশ নিজের বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে, জমির মালিক জয়নুল আবেদিনের দাবি, তিনি বৈধভাবে জমিটি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষের প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তিনি ওই জমিতে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জয়নুল আবেদিন। জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।

জয়নুল আবেদিনের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সি.এস. ১৮৭ নম্বর খতিয়ানের ৪৪৪০ দাগে ২৬ শতক এবং ৪৪৪৫ দাগে ২০ শতক, মোট ৪৬ শতক জমির মালিক ছিলেন সাহাব উদ্দিন। সাহাব উদ্দিন মারা গেলে তার ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে ইউনুস আলী সরকার সম্পত্তির মালিক হন বলে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ইউনুস আলী সরকার ওই জমি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ২২ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে ৫২৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতক এবং ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকসহ মোট ৪৬ শতক জমি আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর নামে এস.এ. ২২১ নম্বর খতিয়ান প্রকাশিত হয় বলে কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এরপর আব্দুল মজিদ ৪৪৪০ দাগে ১৩ শতক ও ৪৪৪৫ দাগে ১০ শতক এবং আজাদ আলী ৪৪৪০ দাগে ১৩ শতক ও ৪৪৪৫ দাগে ১০ শতক জমি ভোগদখল করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ অক্টোবর ২০১১ সালে ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আজাদ আলী তার ৪৪৪০ দাগের ১৩ শতক জমির মধ্য থেকে ১০ শতক জমি জয়নুল আবেদিনের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তর করেন বলে দলিলের তথ্য থেকে জানা যায়।

ফলে ৪৪৪০ দাগের মোট ২৬ শতক জমির মধ্যে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক, জয়নুল আবেদিনের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর অবশিষ্ট ৩ শতক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৪৪৪৫ দাগের মোট ২০ শতকের মধ্যে আব্দুল মজিদের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ১০ শতক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলে, হামিদুর ইসলাম, রশিদুল ইসলাম এবং তার এক ছেলে রেকর্ডের সূত্র ধরে ১৩ শতক জমির দাবি করছেন বলে অভিযোগ জয়নুল আবেদিনের।

জমির মালিকানা বিষয়ে একাধিকবার থানা ও আদালতে বিষয়টি নিয়ে বিচার হয়েছে। কিন্তু ফরিদ হোসেন কিংবা তার ছেলেরা তাদের দাবির পক্ষে কোনো দলিল বা মালিকানা প্রমাণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

জয়নুল আবেদিন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালত থেকে তিনি একটি আদেশও পেয়েছেন। তবে ওই আদেশের পরও জমিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ তার।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার সময় থেকেই আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। পরবর্তীতে দলিলের মাধ্যমে আমি জমি কিনেছি। ২০১১ সালের ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আজাদ আলীর কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনে দখল বুঝে নিয়েছি।

তিনি জানান, ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলে রেকর্ডের কথা বলে ১৩ শতক জমি দাবি করছেন। কিন্তু এ নিয়ে কয়েকবার থানা ও আদালতে বিচার হলেও তারা তাদের দাবির পক্ষে কোনো দলিল বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আদালতের আদেশও রয়েছে। তারপরও আমি জমির কাছে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে বাধা দেওয়া হয়।

জয়নুল আবেদিনের অভিযোগ, নিজের বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে যেতে না পারায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দলিল, খতিয়ান ও সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

জয়নুল আবেদিনের দেওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ৫২৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ইউনুস আলী সরকার থেকে আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর কাছে ৪৬ শতক জমি হস্তান্তর হয়। পরবর্তীতে আজাদ আলীর অংশ থেকে ২০১১ সালের ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ১০ শতক জমি জয়নুল আবেদিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতক জমিতে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক, জয়নুল আবেদিনের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ৩ শতক থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। আর ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকে আব্দুল মজিদের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর ১০ শতক থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে বর্তমানে ফরিদ হোসেন ও তার তিন ছেলের পক্ষ থেকে ১৩ শতক জমির দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়নুল আবেদিন।

জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দাবির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সরকারি রেকর্ড, মূল দলিল, খতিয়ান এবং আদালতের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে জয়নুল আবেদিনের অভিযোগ, কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে নিজের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়, ফরিদ হোসেন ও তারা ছেলেদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কোনভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।