1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় হত্যার পর ডিমলায় মাটি চাপা ,কিশোরের লাশ উদ্ধার

 নীলফামারী প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২২

ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টুনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বাড়ীতে  এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। 

হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে  ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত রয়েছে—এমন ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া  তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের বসুনিয়াপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।

রাকিবের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান, রাকিবকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে আব্দুল্লাহ মামুন তাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

পরে বিষয়টি জানিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। মামুনকে গ্রেপ্তারের পর রাকিবের পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটির ডিএমপি মামলা নম্বর-০৫, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার জায়গাটি শনাক্ত করা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে মামুন দাবি করেছেন, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠেন। যাত্রাপথে কার্টনের ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে সেখানে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান।

রংপুরে পৌঁছে লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন। পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে সুপারি বাগানে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বাড়ি দিনাজপুরে বলে জানা গেছে।

তবে রতন ও নুর জামালের সম্পৃক্ততা কী পর্যায়ে এবং তারা কীভাবে এ ঘটনায় জড়িত—তা এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি এবং সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

পরিবারের দাবি, ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তারা চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পাননি।

পুলিশ বলছে, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন, এআই ভিডিও তৈরির বিষয়টি এবং রতন ও নুর জামালসহ অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অপহরণ ও হত্যা বিষয়ে ঢাকার ডিএমপির কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিমলা থানায় নিয়ে এসে মরদেহ উত্তোলনে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ডিমলা থানা পুলিশ মরদেহ উত্তোলনে সহযোগিতা করেছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় হত্যার পর ডিমলায় মাটি চাপা ,কিশোরের লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২

ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টুনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বাড়ীতে  এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। 

হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে  ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত রয়েছে—এমন ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া  তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের বসুনিয়াপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।

রাকিবের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান, রাকিবকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে আব্দুল্লাহ মামুন তাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

পরে বিষয়টি জানিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। মামুনকে গ্রেপ্তারের পর রাকিবের পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটির ডিএমপি মামলা নম্বর-০৫, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার জায়গাটি শনাক্ত করা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে মামুন দাবি করেছেন, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠেন। যাত্রাপথে কার্টনের ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে সেখানে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান।

রংপুরে পৌঁছে লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন। পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে সুপারি বাগানে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বাড়ি দিনাজপুরে বলে জানা গেছে।

তবে রতন ও নুর জামালের সম্পৃক্ততা কী পর্যায়ে এবং তারা কীভাবে এ ঘটনায় জড়িত—তা এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি এবং সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

পরিবারের দাবি, ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তারা চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পাননি।

পুলিশ বলছে, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন, এআই ভিডিও তৈরির বিষয়টি এবং রতন ও নুর জামালসহ অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অপহরণ ও হত্যা বিষয়ে ঢাকার ডিএমপির কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিমলা থানায় নিয়ে এসে মরদেহ উত্তোলনে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ডিমলা থানা পুলিশ মরদেহ উত্তোলনে সহযোগিতা করেছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।