শান্তিগঞ্জে সূর্য আলমসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, খুঁজছে পুলিশ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বসতবাড়িতে প্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা দ্রুত বিচার মামলায় সূর্য আলমসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আদালতের পরোয়ানা জারির পর আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলাটি দ্রুত বিচার মামলা নং-১৯/২০২৬। মামলার বাদী শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের রুকসানা বেগম। মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন হলেন—সোহেদ আলম, আক্কল আলী, কুহিল, নুর ইসলাম, সামছু আলম, সূর্য আলম, অলি, সুনেকা, সফারুন, হুসনারা ও লাকী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁরা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, তাঁর আলমারিতে থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা, এবং নগদ ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বাধা দিতে গেলে বাদীকে মারধর করে আহত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও আসামিরা সশস্ত্র অবস্থানে থাকায় কেউ বাড়িতে প্রবেশের সাহস পাননি বলে দাবি করেছেন বাদী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ বাদীর বাড়ি থেকে কিছু ধান, গরু ও মেশিন উদ্ধার করে তাঁর স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে এবং বসতঘরটি তালাবদ্ধ করে দেয়।
বাদীর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ১৬ জুলাই আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিজ বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আবারও সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় পুলিশের দেওয়া তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাদী নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর বসতঘর দখলে রেখে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, জমির দলিল ও পর্চাও তাঁদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বাদী ও তাঁর পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর সংশোধিত ২০২৪ সালের বিধান অনুযায়ী ৪ ও ৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানা কার্যকরের লক্ষ্যে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজখবর ও অভিযান চালাচ্ছে।






















