1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ, ৫০০ শিক্ষকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি

সাদ্দাম হোসেন সাইফ : বান্দরবান
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৯

পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে জনপ্রতি ৪০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ; টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার শিক্ষা কর্মকর্তার, তদন্তের আশ্বাস জেলা শিক্ষা অফিসের”।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসসহ শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক। তাঁদের দাবি, উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে মোট প্রায় ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, চাকরিসংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য এভাবে অর্থ চাওয়ায় তাঁরা আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অর্থের প্রকৃত প্রাপক এবং লেনদেনের নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রথমে ৭০০ টাকা, পরে ৪০০ টাকা দেওয়ার কথা;

কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রথমে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কেউ ৭০০ টাকা দিতে রাজি না হলে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয় বলে দাবি করেন কয়েকজন শিক্ষক।

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে ৫০০ জনের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা আদায়ের দাবি করা হলেও অর্থ সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, রসিদ কিংবা জমার নথি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ;

শিক্ষকদের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, হিসাব সহকারী রতন বড়ুয়া, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসান এবং অফিস সহকারী হারাধনের নাম উঠে এসেছে।

তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং দাপ্তরিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের প্রশ্ন—সরকারি কাজ করতে টাকা কেন?-

একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদ যদি সরকারি দাপ্তরিক কাজ হয়, তাহলে এর জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে কেন? কোনো সরকারি ফি থাকলে তার লিখিত নির্দেশনা দেখানো হোক। আর নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।”

আরেক শিক্ষক বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। চাকরিসংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধা পেতে গিয়ে যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।”

অন্য এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে কোথায় জমা হয়েছে, কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন বিধির আওতায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাই।”

বিকাশ ও সরাসরি টাকা দেওয়ার অভিযোগ;

এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পে-ফিক্সেশনের ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বিকাশের মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব লেনদেনের পরিমাণ, অর্থের প্রকৃত প্রাপক, টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য;

অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নিজেকে কামরুল হাসান নন বলে পরিচয় দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

জেলা শিক্ষা অফিসের বক্তব্য;

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, “শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা শিক্ষা অফিসের এ বক্তব্যের পর শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

তদন্তের দাবি শিক্ষকদের;

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের জন্য এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কার নির্দেশে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কোনো রসিদ বা হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না এবং অর্থ কোথায় জমা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি তাঁদের।

শিক্ষকদের চাকরিসংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম যেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন তাঁদের প্রত্যাশা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:১৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

“লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ, ৫০০ শিক্ষকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি

আপডেট সময় : ০১:১৭:১৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৯

পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে জনপ্রতি ৪০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ; টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার শিক্ষা কর্মকর্তার, তদন্তের আশ্বাস জেলা শিক্ষা অফিসের”।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসসহ শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক। তাঁদের দাবি, উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে মোট প্রায় ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, চাকরিসংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য এভাবে অর্থ চাওয়ায় তাঁরা আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অর্থের প্রকৃত প্রাপক এবং লেনদেনের নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রথমে ৭০০ টাকা, পরে ৪০০ টাকা দেওয়ার কথা;

কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রথমে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কেউ ৭০০ টাকা দিতে রাজি না হলে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয় বলে দাবি করেন কয়েকজন শিক্ষক।

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে ৫০০ জনের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা আদায়ের দাবি করা হলেও অর্থ সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, রসিদ কিংবা জমার নথি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ;

শিক্ষকদের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, হিসাব সহকারী রতন বড়ুয়া, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসান এবং অফিস সহকারী হারাধনের নাম উঠে এসেছে।

তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং দাপ্তরিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের প্রশ্ন—সরকারি কাজ করতে টাকা কেন?-

একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদ যদি সরকারি দাপ্তরিক কাজ হয়, তাহলে এর জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে কেন? কোনো সরকারি ফি থাকলে তার লিখিত নির্দেশনা দেখানো হোক। আর নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।”

আরেক শিক্ষক বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। চাকরিসংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধা পেতে গিয়ে যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।”

অন্য এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে কোথায় জমা হয়েছে, কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন বিধির আওতায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাই।”

বিকাশ ও সরাসরি টাকা দেওয়ার অভিযোগ;

এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পে-ফিক্সেশনের ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বিকাশের মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব লেনদেনের পরিমাণ, অর্থের প্রকৃত প্রাপক, টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য;

অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নিজেকে কামরুল হাসান নন বলে পরিচয় দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

জেলা শিক্ষা অফিসের বক্তব্য;

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, “শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা শিক্ষা অফিসের এ বক্তব্যের পর শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

তদন্তের দাবি শিক্ষকদের;

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের জন্য এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কার নির্দেশে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কোনো রসিদ বা হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না এবং অর্থ কোথায় জমা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি তাঁদের।

শিক্ষকদের চাকরিসংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম যেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন তাঁদের প্রত্যাশা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা প্রয়োজন।