1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প, তবু অন্ধকারে মনপুরা

ভোলা প্রতিনিধি: মোঃ সুলাইমান
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৫

কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প, তবু অন্ধকারে মনপুরা
পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের ব্যাটারি অচল, থমকে ৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড প্রকল্প—সচল হলে বদলে যেতে পারে দ্বীপবাসীর জীবন।
মেঘনা নদীর মোহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারত সৌরবিদ্যুৎ। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল সোলার মিনিগ্রিড। পরে আরও বড় পরিসরে পুরো দ্বীপকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আওতায় আনতে নেওয়া হয় ৩ মেগাওয়াটের সোলার-বেটারি-ডিজেল হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প।
কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন।
একদিকে পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের ব্যাটারি ও অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে সংকট, অন্যদিকে বড় হাইব্রিড প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা। ফলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মনপুরার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
প্রশ্ন উঠছে—কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে তৈরি ও নির্মাণাধীন এসব প্রকল্পের সুফল থেকে মনপুরাবাসী পুরোপুরি বঞ্চিত কেন?
আলো দেখিয়েছিল ১৭৭ কিলোওয়াটের মিনিগ্রিড
২০১৪-১৫ সালের দিকে মনপুরার বাংলাবাজার এলাকায় প্রায় ৯২ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয় ১৭৭ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার মিনিগ্রিড। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্প একসময় প্রত্যন্ত দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছিল। বিদ্যুতের আলোয় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও আসে গতি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা যাচাই ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিস্থাপন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘ডেড’ ব্যাটারি কি ফেরানো সম্ভব?
পুরোনো ব্যাটারি দেখে সরাসরি ‘ডেড’ ঘোষণা না করে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা। ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ রেজিস্ট্যান্স, সেল বা প্লেটের অবস্থা এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির ধরন ও প্রকৃত অবস্থার ওপর নির্ভর করে কিছু ইউনিট সীমিত কাজে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। তবে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পুরোনো ব্যাটারিকে আগের শতভাগ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার দাবি পরীক্ষামূলক ও প্রকৌশলগত যাচাই ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
আর ব্যাটারি সম্পূর্ণ অচল হলে আধুনিক ও নিরাপদ ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা স্থাপন করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
মনপুরার জন্য বড় স্বপ্ন—৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড কেন্দ্র
মনপুরার বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই নেওয়া হয় ৩ মেগাওয়াটের সোলার-বেটারি-ডিজেল হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প।
২০২২ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল মনপুরার ২০ হাজার ৪৮৩ জন গ্রাহককে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য, কৃষি ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়ার কথা ছিল।
এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২১.৮৬ টাকা—জটিলতা কোথায়?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী ওজোপাডিকোকে কেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২১ দশমিক ৮৬ টাকা দরে কিনতে হবে। অন্যদিকে তৎকালীন ভোক্তা পর্যায়ে গড় বিদ্যুৎমূল্য ছিল ৭ দশমিক ১৩ টাকা। এই বিশাল মূল্য ব্যবধান প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
এ অবস্থায় প্রকল্পটির বর্তমান বাস্তবতা, চুক্তির শর্ত, উৎপাদন ব্যয়, ট্যারিফ এবং সরকারের সম্ভাব্য ভর্তুকি—সবকিছু নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি।
এক প্রকল্পের সঙ্গে আরেক প্রকল্পের সমন্বয়ই হতে পারে সমাধান
মনপুরার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডকেও পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর করা প্রয়োজন।
প্রথমে করতে হবে পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল অডিট।
সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, কন্ট্রোল সিস্টেম, ট্রান্সফরমার, বিতরণলাইন ও মিটারিং ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে। এরপর যেখানে যন্ত্রপাতি পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে নতুন প্রযুক্তি বসাতে হবে।
একই সঙ্গে নতুন হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে পুরোনো বিতরণব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয়ের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রিড সিঙ্ক্রোনাইজেশন, সুরক্ষা ব্যবস্থা, ভোল্টেজ-ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও আইল্যান্ডিংসহ সব কারিগরি বিষয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
দরকার যৌথ কারিগরি তদন্ত
মনপুরার বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে ওজোপাডিকো, বিদ্যুৎ বিভাগ, SREDA, IDCOL এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
কমিটি সরেজমিনে গিয়ে নির্ধারণ করবে—
কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বর্তমানে কী অবকাঠামো রয়েছে, কোন যন্ত্রপাতি সচল, কোনটি অচল, কত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প পুনরায় চালু করা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে কোন প্রযুক্তি সবচেয়ে কার্যকর।
এতে প্রকল্প নিয়ে থাকা নানা প্রশ্নেরও জবাব মিলবে।
অবকাঠামো পড়ে থাকলে বাড়বে ক্ষতি
হাজিরহাট এলাকায় প্রকল্পের জন্য তৈরি স্থাপনা, পিলার, জমি ও অন্যান্য অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।
তাই প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হলে দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। আর প্রকল্পের নকশা বা প্রযুক্তি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তা করতে হবে।
মনপুরাবাসীর প্রশ্ন—আলো আসবে কবে?
একসময় ১৭৭ কিলোওয়াটের সোলার মিনিগ্রিড মনপুরার মানুষের ঘরে আলো জ্বালিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে ৩ মেগাওয়াটের হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে। প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছিল, নতুন কেন্দ্র চালু হলে মনপুরার সব গ্রাহককে সরকারি মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এখন প্রয়োজন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
প্রকল্প ফেলে রেখে নয়, প্রকল্প সচল করেই মনপুরাকে আলোকিত করতে হবে।
মনপুরার মানুষের দাবি—পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি অডিট হোক, প্রয়োজন হলে নতুন ব্যাটারি বসানো হোক, ৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড প্রকল্পের জট খুলে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক এবং দুটি ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
কারণ দ্বীপবাসীর কাছে বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়—শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের মৌলিক প্রয়োজন।
মনপুরা আর প্রতিশ্রুতির আলো নয়—চায় ঘরে ঘরে বাস্তব বিদ্যুতের আলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৫৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প, তবু অন্ধকারে মনপুরা

আপডেট সময় : ০১:২১:৫৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫

কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প, তবু অন্ধকারে মনপুরা
পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের ব্যাটারি অচল, থমকে ৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড প্রকল্প—সচল হলে বদলে যেতে পারে দ্বীপবাসীর জীবন।
মেঘনা নদীর মোহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারত সৌরবিদ্যুৎ। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল সোলার মিনিগ্রিড। পরে আরও বড় পরিসরে পুরো দ্বীপকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আওতায় আনতে নেওয়া হয় ৩ মেগাওয়াটের সোলার-বেটারি-ডিজেল হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প।
কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন।
একদিকে পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের ব্যাটারি ও অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে সংকট, অন্যদিকে বড় হাইব্রিড প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা। ফলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মনপুরার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
প্রশ্ন উঠছে—কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে তৈরি ও নির্মাণাধীন এসব প্রকল্পের সুফল থেকে মনপুরাবাসী পুরোপুরি বঞ্চিত কেন?
আলো দেখিয়েছিল ১৭৭ কিলোওয়াটের মিনিগ্রিড
২০১৪-১৫ সালের দিকে মনপুরার বাংলাবাজার এলাকায় প্রায় ৯২ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয় ১৭৭ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার মিনিগ্রিড। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্প একসময় প্রত্যন্ত দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছিল। বিদ্যুতের আলোয় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও আসে গতি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা যাচাই ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিস্থাপন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘ডেড’ ব্যাটারি কি ফেরানো সম্ভব?
পুরোনো ব্যাটারি দেখে সরাসরি ‘ডেড’ ঘোষণা না করে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা। ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ রেজিস্ট্যান্স, সেল বা প্লেটের অবস্থা এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির ধরন ও প্রকৃত অবস্থার ওপর নির্ভর করে কিছু ইউনিট সীমিত কাজে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। তবে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পুরোনো ব্যাটারিকে আগের শতভাগ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার দাবি পরীক্ষামূলক ও প্রকৌশলগত যাচাই ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
আর ব্যাটারি সম্পূর্ণ অচল হলে আধুনিক ও নিরাপদ ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা স্থাপন করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
মনপুরার জন্য বড় স্বপ্ন—৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড কেন্দ্র
মনপুরার বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই নেওয়া হয় ৩ মেগাওয়াটের সোলার-বেটারি-ডিজেল হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প।
২০২২ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল মনপুরার ২০ হাজার ৪৮৩ জন গ্রাহককে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য, কৃষি ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়ার কথা ছিল।
এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২১.৮৬ টাকা—জটিলতা কোথায়?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী ওজোপাডিকোকে কেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২১ দশমিক ৮৬ টাকা দরে কিনতে হবে। অন্যদিকে তৎকালীন ভোক্তা পর্যায়ে গড় বিদ্যুৎমূল্য ছিল ৭ দশমিক ১৩ টাকা। এই বিশাল মূল্য ব্যবধান প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
এ অবস্থায় প্রকল্পটির বর্তমান বাস্তবতা, চুক্তির শর্ত, উৎপাদন ব্যয়, ট্যারিফ এবং সরকারের সম্ভাব্য ভর্তুকি—সবকিছু নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি।
এক প্রকল্পের সঙ্গে আরেক প্রকল্পের সমন্বয়ই হতে পারে সমাধান
মনপুরার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডকেও পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর করা প্রয়োজন।
প্রথমে করতে হবে পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল অডিট।
সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, কন্ট্রোল সিস্টেম, ট্রান্সফরমার, বিতরণলাইন ও মিটারিং ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে। এরপর যেখানে যন্ত্রপাতি পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে নতুন প্রযুক্তি বসাতে হবে।
একই সঙ্গে নতুন হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে পুরোনো বিতরণব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয়ের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রিড সিঙ্ক্রোনাইজেশন, সুরক্ষা ব্যবস্থা, ভোল্টেজ-ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও আইল্যান্ডিংসহ সব কারিগরি বিষয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
দরকার যৌথ কারিগরি তদন্ত
মনপুরার বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে ওজোপাডিকো, বিদ্যুৎ বিভাগ, SREDA, IDCOL এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
কমিটি সরেজমিনে গিয়ে নির্ধারণ করবে—
কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বর্তমানে কী অবকাঠামো রয়েছে, কোন যন্ত্রপাতি সচল, কোনটি অচল, কত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প পুনরায় চালু করা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে কোন প্রযুক্তি সবচেয়ে কার্যকর।
এতে প্রকল্প নিয়ে থাকা নানা প্রশ্নেরও জবাব মিলবে।
অবকাঠামো পড়ে থাকলে বাড়বে ক্ষতি
হাজিরহাট এলাকায় প্রকল্পের জন্য তৈরি স্থাপনা, পিলার, জমি ও অন্যান্য অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।
তাই প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হলে দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। আর প্রকল্পের নকশা বা প্রযুক্তি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তা করতে হবে।
মনপুরাবাসীর প্রশ্ন—আলো আসবে কবে?
একসময় ১৭৭ কিলোওয়াটের সোলার মিনিগ্রিড মনপুরার মানুষের ঘরে আলো জ্বালিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে ৩ মেগাওয়াটের হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে। প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছিল, নতুন কেন্দ্র চালু হলে মনপুরার সব গ্রাহককে সরকারি মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এখন প্রয়োজন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
প্রকল্প ফেলে রেখে নয়, প্রকল্প সচল করেই মনপুরাকে আলোকিত করতে হবে।
মনপুরার মানুষের দাবি—পুরোনো সোলার মিনিগ্রিডের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি অডিট হোক, প্রয়োজন হলে নতুন ব্যাটারি বসানো হোক, ৩ মেগাওয়াট হাইব্রিড প্রকল্পের জট খুলে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক এবং দুটি ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
কারণ দ্বীপবাসীর কাছে বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়—শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের মৌলিক প্রয়োজন।
মনপুরা আর প্রতিশ্রুতির আলো নয়—চায় ঘরে ঘরে বাস্তব বিদ্যুতের আলো।