1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

ছাইম খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজেকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা। রোববার সকালে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জেলার মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোশারেফ হোসেন মোল্লা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁর মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ ও লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি।

তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারাও প্রকাশিত তথ্যের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজেকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা। রোববার সকালে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জেলার মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোশারেফ হোসেন মোল্লা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁর মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ ও লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি।

তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারাও প্রকাশিত তথ্যের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।