1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রজন্মের মাদকে উদ্বেগ বাড়ছে, অনলাইনেই হচ্ছে ৯০ শতাংশ বেচাকেনা

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে প্রচলিত মাদক যেমন ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলের পাশাপাশি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরুণদের মধ্যে এসব মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমডিএমবি, আইস, এলএসডি, ফেন্টানাইল, এমডিএমএ, ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, কিটামিন ও ট্যাপেন্টাডলের মতো নতুন প্রজন্মের মাদক গত কয়েক বছরে দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এক ডজনের বেশি নতুন ধরনের মাদকের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাদকের প্রায় ৯০ শতাংশ বেচাকেনা ও অর্থ লেনদেন হচ্ছে অনলাইনে। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডার্ক ওয়েব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। ফলে প্রচলিত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক কারবারের বড় একটি অংশ।

অন্যদিকে, পুরনো মাদকের বিস্তারও কমেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৪০ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬১ কেজি হেরোইন এবং ১৬ কেজি কোকেন জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধার হওয়া মাদকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মাদক বিভিন্ন উপায়ে সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

গত মার্চে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চীনা তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেখানে একটি অস্থায়ী ল্যাবরেটরির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে তরল কিটামিনকে পাউডারে রূপান্তর করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ভেতরে লুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে কিটামিন, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং মেশিন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিস, বৈধ ওষুধের সরবরাহ চেইন এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান সিনথেটিক মাদক দেশে প্রবেশের প্রধান তিনটি পথ। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট আকারের ‘মিনি ল্যাব’ গড়ে ওঠার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, পরিবহন বা বিতরণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে মাদক-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনকেও অবৈধ ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত আসক্তি তৈরির ক্ষমতা এবং অনলাইনভিত্তিক বিস্তারের কারণে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক মাদক আগামী দিনে আরও বড় সামাজিক ও আইন-শৃঙ্খলাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে। তাই সময়োপযোগী আইন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

নতুন প্রজন্মের মাদকে উদ্বেগ বাড়ছে, অনলাইনেই হচ্ছে ৯০ শতাংশ বেচাকেনা

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দেশে প্রচলিত মাদক যেমন ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলের পাশাপাশি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরুণদের মধ্যে এসব মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমডিএমবি, আইস, এলএসডি, ফেন্টানাইল, এমডিএমএ, ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, কিটামিন ও ট্যাপেন্টাডলের মতো নতুন প্রজন্মের মাদক গত কয়েক বছরে দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এক ডজনের বেশি নতুন ধরনের মাদকের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাদকের প্রায় ৯০ শতাংশ বেচাকেনা ও অর্থ লেনদেন হচ্ছে অনলাইনে। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডার্ক ওয়েব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। ফলে প্রচলিত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক কারবারের বড় একটি অংশ।

অন্যদিকে, পুরনো মাদকের বিস্তারও কমেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৪০ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬১ কেজি হেরোইন এবং ১৬ কেজি কোকেন জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধার হওয়া মাদকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মাদক বিভিন্ন উপায়ে সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

গত মার্চে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চীনা তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেখানে একটি অস্থায়ী ল্যাবরেটরির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে তরল কিটামিনকে পাউডারে রূপান্তর করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ভেতরে লুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে কিটামিন, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং মেশিন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিস, বৈধ ওষুধের সরবরাহ চেইন এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান সিনথেটিক মাদক দেশে প্রবেশের প্রধান তিনটি পথ। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট আকারের ‘মিনি ল্যাব’ গড়ে ওঠার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, পরিবহন বা বিতরণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে মাদক-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনকেও অবৈধ ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত আসক্তি তৈরির ক্ষমতা এবং অনলাইনভিত্তিক বিস্তারের কারণে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক মাদক আগামী দিনে আরও বড় সামাজিক ও আইন-শৃঙ্খলাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে। তাই সময়োপযোগী আইন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।