ফুলছড়িতে যুব অধিকার পরিষদ সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলা, অবস্থা আশঙ্কাজনক
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় যুব অধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফের ওপর একটি বর্বরোচিত ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ফলিয়ার পাথার এলাকায় ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় আরিফুল ইসলাম গাইবান্ধা শহর থেকে একটি অটোরিকশা যোগে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ফলিয়ার পাথার এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এরপর তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। হামলার একপর্যায়ে এক পথচারীর উপস্থিতি টের পেয়ে আক্রমণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ওই পথচারী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত আরিফুলের গলা ও পেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, যুব অধিকার পরিষদ নেতার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।






















